মাত্র ৮০০ মিটার খালের অভাবে বোরো চাষ ব্যাহত

অভয়নগরের প্রাচীন এক গ্রাম রাজাপুর । পুড়া পরগনার জমিদার চাঁদরায়ের পুত্র ‘রাজারাম’ বা  ‘রাজা মুনকে মনোহর’ এখন শুধুই এখানকার ইতিহাস মাত্র । বর্তমানে এখানে রাজত্ব করে চলেছে এখানকার জলবদ্ধতা এবং যার হতভাগ্য প্রজা এখানকার হতদরিদ্র পরিবারগুলো । বিল ঝিকরার যে কোন এক প্রান্তে  দাড়ালেই অনুভব করা যায় এর বিশালতা । অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে সাভাবিক নিয়মেই বার বার সংঘটিত হয়েছে নিপীড়িত শ্রেণী এটাই পৃথিবীর ইতিহাস । সেই সাভাবিক নিয়মেই সংঘটিত হয়ে ফুসে উঠেছে রাজাপুরবাসী এবং যার সাথে একাত্ব ঘোসনা করেছে ভবদহের কারনে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সাথে সম্পৃক্ত সমস্ত গ্রামের গ্রামবাসী । কারন এ সকল অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র চাষী যারা বর্ষা মৌসুমে বিল থেকে স্বাধীন ভাবে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে ।

ঝিকরা বিল, ধলির বিল, ডুমুর বিল, কুমরার বিল, ধপাদী বিল, সুড়ির ডাঙ্গা বিল, বোকড়ের বিল, মাগুরার বিল, বনগ্রামের বিল সহ একাধিক বিলের জল পলিতে নদীর বুক স্ফীত হওয়ার কারনে বর্ষা মৌসমে ভবদহ স্লুইস গেট দিয়ে অপসারিত হতে পারে না । আবার ঝিকরা বিলের খাল দিয়ে অপসারিত হয়ে ভৈরবে যেতে পারে না যার প্রধান কারন রাজাপুর ব্রিজের নিকটবর্তী খালের মুখ সরু এবং খালের জমি উচু । ১১ বছর পূর্বে খনন করা এ খাল এখন অকেজো প্রায় । যে কারনে রাজাপুর, রামসরা, আড়পাড়া, গবিন্দপুর, ধোপাদী, ধোপাপাড়া, আমডাঙ্গা, বালিয়াডাঙ্গা, সখীপুর, বনগ্রাম, মাগুরা, সুন্দলী, সড়াডাঙ্গা, হরিদাসপুর, ফুলেরগাতী, ডহর মশিয়াহাটি, মশিয়াহাটি, কুল্টিয়া, সুজাতপুর, পোড়াডাঙ্গা, বেদভিটা, বলারাবাদ, আন্দা, পাঁচবাড়িয়া, পাঁচকাঠিয়া, লখাইডাঙ্গা, মহিষদিয়া, ডুমূরতলা সহ ভবদহের সাথে সম্পর্কযুক্ত সমস্ত গ্রাম গুলো শিকার হয় জলবদ্ধতার । প্রতি বছর  গ্রামগুলোর সিংহ ভাগ আবাদি জমি ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হয় মৌসুমি ফসল চাষাবাদে বিশেষ করে বোরো মৌসমে ।

এ সমস্যা সমাধানে রাজাপুর সহ প্রায় সমস্ত গ্রামের মানুষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে এবং যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য রনজিত রায়ের আর্থিক সহায়তায় গত ২১ জানুয়ারি বৃহস্পতি বার ১২ টি সেচ পাম্পের সাহায্যে ঝিকরা বিলের পানি নিস্কাষনের কাজ আরম্ভ করে । যা প্রায় অসম্ভব এবং অস্থায়ী ।

একারনে রাজাপুর সহ প্রায় ৫০ টি গ্রামের দাবি উঠেছে রাজাপুর পূর্বপাড়া খাল থেকে আমডাঙ্গা পশ্চিম পাড়া মাত্র ৮০০ মিটার খাল খনন করে এর স্থায়ী সমাধানের । এ বিকল্প ব্যাবস্থা বাস্তবায়িত হলে উক্ত গ্রামগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত সমস্ত বিলের জল খুব সহজে ভৈরব নদীতে যেতে পারবে যার ফলে বহুল আলোচিত ভবদাহ সমস্যার প্রায় ৮০ ভাগ সমাধান হবে বলে দাবি এলাকার লোকজনের ।

প্রকৃতির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করে দু-বেলা দু-মুঠ খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এটুকু দাবি যে খুব বেশিকিছু নয় সে সম্পর্কে আপনি আমি আমরা সকলেই অবগত ।

কিন্তু ৮০০ মিটার খাল খনন কার্জ বাস্তবায়ন করতে সব থেকে বড় প্রতিবন্ধকতা হল প্রভাবশালীদের ঘের এবং জমির মালিক কারন খালের উপকার ভোগীদের কারো জমি সেখানে নেই । স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় যে ঘের মালিকদের নজরও এখন ঝিকরার বিলের জমির উপর ।

এ কারনে ৮০০ মিটার খাল খনন কার্জ বাস্তবায়নে সার্বিক সহয়তা করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের দূর্দশা লাঘব করার জন্য ঘের মালিক, স্থানীয় নেতা কর্মী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে মানুবিক এবং স্বদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী ।

 

/সবুজ মন্ডল/

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।