দেশের মৎস্য খাত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় এখন আন্তর্জাতিক বাজারে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি।
আজ মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।
হাওরাঞ্চল ও প্রান্তিক খামারিদের অগ্রাধিকার
এবার দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে আমাদের হাওরাঞ্চল অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রান্তিক চাষি ও জেলেদের সরাসরি এই কর্মসূচির সুফল পৌঁছাতে এবং উৎসাহিত করতেই দেশের প্রধান আয়োজনটি কিশোরগঞ্জে করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দিকনির্দেশনায় মৎস্য খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে।
সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজ নিজ মেধা ও সততা দিয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা ফাঁকি দেওয়া চলবে না।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাধারণ মৎস্যচাষিরা সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। যার যা দায়িত্ব, তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কাজের অবহেলা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।”
মাঠপর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম কেন্দ্রের বাইরে বড় পরিসরে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ আয়োজন করা হলো। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাষি ও জেলেদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ায় দেশের মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৎস্যচাষি ও জেলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


