ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণে সরকার কাজ করছে। বড়- মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে জাপান সরকার এবং জাইকা আর্থিকসহ সকল প্রকার কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। বলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান।
তিনি বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারনে বাংলাদেশ অত্যন্ত ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ হবে তা কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। তাই, ভূমিকম্প সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে জাপানের মতো একটি ভুমিকম্প দুর্যোগ সহনীয় দেশ উপহার দিতে সরকার কাজ করছে । এর অংশ হিসেবে পুরাতন ভবনগুলো সংস্কার করে ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলা হবে।আমাদের দেশের প্রকৌশলী ও স্হপতিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্হা নেয়া হবে যেনো ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ও অন্যান্য স্হাপনা ণির্মানে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন ।
প্রতিমন্ত্রী আজ ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত ‘দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে সেন্দাই কর্মকাঠামো বাস্তবায়ন’শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন ।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরো বক্তৃতা করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকাস্থ সুইডেনের রাষ্ট্রদূত মিজ শার্লোটা সিল্টার ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ সহনশীল জাতি গঠনে সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এটি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সর্বজন স্বীকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাঠামো। বাংলাদেশ এই কর্মকাঠামোতে অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। এটি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এর বাস্তবায়ন একক কোনো সংস্থার কাজ নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, সংস্থা, এনজিওসহ সকল স্টেক হোল্ডারদেরকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহবান জানান ।
মূল প্রবন্ধে অতিরিক্ত সচিব ও ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোঃ মোহসীন বলেন, দুর্যোগে প্রতিক্রিয়াধর্মী সাড়াদান থেকে বেড়িয়ে ঝুঁকি হ্রাসের সংস্কৃতি জোরদার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে, আমাদের অনেক সাফল্যও রয়েছে।পাইলটিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সিপিপির আদলে বন্যাপ্রস্তুতির সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি, ভূমিকম্প প্রস্তুতি মডেল , অভিযোজিত সামাজিক নিরাপত্তার মডেল ও প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক ঝুঁকিহ্রাস মডেল উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগে আগাম সাড়াদানের কৌশল হিসেবে Forecast based Financing, Adaptive Social Protection, Inclusive Risk Insurance এসকল বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।দুর্যোগ সহনশীল জাতি গঠনে অবকাঠামোগত ও অ- অবকাঠামোগত উভয় ধরনের কার্যক্রমই জরুরি। এই উপলব্ধি থেকে দুর্যোগ সহনীয় গৃহ/ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।অবকাঠামোর সহনশীলতা বাড়াতে Asset Management System তৈরি করা হচ্ছে।





