× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

ভারত-পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে।  এতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক অবনতি হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে কাশ্মীরে হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানিকে নিরাপত্তা বাহিনী হত্যার পর প্রতিবেশী এই দুটি দেশের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

বুরহান হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কাশ্মীরে এ পর্যন্ত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, সংঘর্ষে ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে হাজার দেড়েক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে সংঘর্ষের আশঙ্কায় রাজ্যের ১০ টি জেলাতেই কারফিউ জারি করা হয়।

কাশ্মীরে চলমান সহিংসতাকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।  প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যকে নাকচ করে দেওয়া হয়।

পাকিস্তান এরপর জাতিসংঘসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে কাশ্মীর পরিস্থিতি তুলে ধরে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ৫৭টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছেও কাশ্মীরের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটি।

এই নালিশের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন নজিরবিহীনভাবে পাকিস্তানের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতিসংঘের মঞ্চ অপব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যে বরাবর সন্ত্রাসবাদীদের প্রশয় দিয়েছে। অন্য দেশের এলাকা দখল করার চেষ্টা করে। পাকিস্তানের জাতীয় নীতিও বরাবর সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভুল পথে এগিয়েছে। জাতিসংঘ যাদেরকে জঙ্গি বলে চিহ্নিত করেছে, তাদের গুণকীর্তন করেছে পাকিস্তান। আর নিজেদের এই অপকীর্তিকে মানবাধিকার রক্ষার নামে বারবার চালাতে চেয়েছে।’

আকবরউদ্দিন আরো বলেন, ‘পাকিস্তানে মানবাধিকারের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, একাধিকবার চেষ্টা করেও তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হতে পারেনি। অতীতেও ভারতকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান এ ধরনের অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবারের মতো এবারেও আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন তারা আদায় করতে পারেনি।’

ভারতের পাল্টা হিসেবে জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রতিনিধি মালিহা লোধি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এডমন্ড মিলেটের সঙ্গে দেখা করেন। পাক প্রশাসনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার নারকীয় অত্যাচার নিয়ে জাতিসংঘে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। আমরা চাই, কাশ্মীরে গণহত্যার তদন্ত করুক জাতিসংঘ। স্বাধীনতার আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদ বলা যায় না।’

এদিকে, ১৯ জুলাই পাকিস্তানে কাশ্মীরের সমর্থনে ‘কালা দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। মন্ত্রী পরিষদের জরুরি বৈঠকে নওয়াজ শরীফ কাশ্মিরীদের আন্দোলনকে ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে আখ্যা দিয়ে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে পাকিস্তান কাশ্মিরিদের সব রকম নৈতিক, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সমর্থন দেবে বলে ঘোষণা করেছেন।

পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শনিবার টুইটারে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তিনি টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘মোদি গুজরাটে যে গণহত্যা চালিয়েছিল, কাশ্মীরেও তারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।’

অন্যদিকে, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান যেভাবে একনাগাড়ে নাক গলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে, তাতে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের জঙ্গিদের নানা ভাবে প্রশংসা করা হচ্ছে, উৎসাহ দেয়া হচ্ছে এবং মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। এ থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, ওই সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি পাকিস্তানের এখনও সহানুভূতি রয়েছে। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’


এ ক্যটাগরির আরো খবর..