ধংসের মুখে চীন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে

অভিজিৎ পান্ডে, দি নিউজ ডেক্সঃ ভয়াবহ ধংসের মুখে চীন, বিভিন্ন সূত্র ও কর্তব্যরত নার্সদের দাবী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা  ১ লাখের বেশি এবং সরকার যা বলছে বাস্তবে তার চেয়ে কয়েকগুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত। যদিও সরকারের মতে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজারের বেশি মানুষ এবং চীনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯০ জন। কারন হাসপাতালে মৃতের কোনো রেকর্ড না রেখেই তড়িঘড়ি করে মরদেহগুলো সৎকার করার কাজ করছে চীন সরকার।

চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সরকার যতটা বলছে তার চেয়েও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে এক চিকিৎসা কর্মী দাবি করেছেন। উহান শহরের হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সের দাবি, সেখানে ইতোমধ্যেই ৯০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

কিন্তু সে দেশের সরকার বলছে মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯০ এবং বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। শুধু গতকালই ওই প্রদেশে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনের বাইরে ২৫ টির বেশি দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে এবং কোনো কোনো দেশে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এই ভাইরাস যার ফলে ভারত আমেরিকা সহ অনেক দেশ চীনকে সম্পূর্ন রুপে বয়কট করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিকভাবে স্বাস্থ্যখাতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মরণঘাতি এ ভাইরাস ক্রমে বেড়ে চললে জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশ পথ সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়। তাদের পর গত রোববার থেকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ। এবার এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছে হংকংয়ের হাসপাতাল কর্মীরা। গতকাল সোমবার হংকংয়ের হসপিটাল অথরিটি এমপ্লয়িজ অ্যালায়েন্সের (এইচএইএ) শত শত সদস্য এ ধর্মঘটে নেমে পড়েন। নতুন এ ভাইরাস চীনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে ঢুকে পড়েছে।

চীনের বাহিরে সবচেয়ে বেশি সন্ধান মিলেছে ফিলিপাইনে (১৫০)। এরপরই থাইল্যান্ড ও হংকং। তবে এমন পরিস্থিতিতে মেডিকেল কর্মীদের ধর্মঘটে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নগরটির সরকার। তা সত্তে¡ও তাদের ১৮ হাজার সদস্যের মধ্যে দুই হাজার ৪০০ সদস্য ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে। এদিকে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে এক লাখ দুই হাজারের অধিক লোক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন-এমন সন্দেহে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তবে মহামারি করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যে হিসাব দিয়েছে প্রকৃতপক্ষে ওই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে মৃতের কোনো রেকর্ড না রেখেই তড়িঘড়ি করে মরদেহগুলো সৎকার করার কাজ করছে চীন। করোনভাইরাসের প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি দেশটিতে বসবাসরত অন্যান্য দেশের নাগরিকরা।

তবে তা আরও ব্যাপক আকারে যাতে না হয় সেজন্য জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ তাদের দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তাদের অনেককে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। সন্দেহভাজনদের হাসপাতালে ও আশঙ্কা এড়াতে অন্যান্যদের আলাদা স্থানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চীনের বাহিরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি ফিলিপাইনে-১৫০ (মৃত-১)। এছাড়া থাইল্যান্ডে (১৯ জন), অস্ট্রেলিয়ায়-১০, কম্বোডিয়ায়-১, কানাডায়-৪, ফ্রান্স-৬, ফিনল্যান্ড-১, জার্মানি-৭, ভারত-১, ইতালি-২, জাপান-১৫, মালয়েশিয়া-৮, নেপাল-১, সিঙ্গাপুর-১৬, দক্ষিণ কোরিয়া-১২, শ্রীলঙ্কা-১, তাইওয়ান-১০, থাইল্যান্ড-১৪, যুক্তরাষ্ট্র-৭, সংযুক্ত আরব আমিরাত-৪, ও ভিয়েতনামে-৫ জনসহ শতকের বেশি মানুষের দেহে প্রাণঘাতি এ ভাইরাস শনাক্ত করেছে দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে চীনাদের জন্য। এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, করেনাভাইরাস রোধে মাস্ক সংকটে পড়েছে চীন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় বিশ কোটি মাস্কের অর্ডার দিয়েছে দেশটি। অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ সংকটে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বেইজিংয়ের।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর উহানে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ার পর চীনের সীমানা পেরিয়ে এই ভাইরাস রাজধানী বেইজিং, সাংহাই, ম্যাকাও ও হংকংয়ের বাইরে বিশ্বের ২৫টি দেশে ছড়িয়েছে। তবে বিস্তার ঠেকাতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ চীনগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিল করছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়া, ক্যাথে প্যাসিফিক, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফিনএয়ার ইতোমধ্যে চীনগামী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

ট্যাগ ২৪ হাজারঅস্ট্রেলিয়ায়-১০ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সইতালি-২এয়ার ইন্ডিয়াএয়ার এশিয়াও ভিয়েতনামে-৫ জনকম্বোডিয়ায়-১করোনা ভাইরাসকানাডায়-৪ক্যাথে প্যাসিফিকচীনে মৃত্যু ৪৯০ জনজাপানজাপান-১৫জার্মানি-৭তড়িঘড়িতাইওয়ান-১০থাইল্যান্ডথাইল্যান্ড-১৪দক্ষিণ কোরিয়া-১২ধংসের মুখে চীননেপাল-১ফিনএয়ারফিনল্যান্ড-১ফিলিপাইনে-১৫০ (মৃত-১)। এছাড়া থাইল্যান্ডে (১৯ জন)ফ্রান্স-৬বিশ কোটি মাস্কের অর্ডারবিশ্বের ২৫টি দেশেবেইজিংব্রিটিশ এয়ারওয়েজভয়াবহভয়াবহ সংকটভাইরাসে আক্রান্ত ১ লাখভারত-১মরদেহগুলো সৎকারমালয়েশিয়া-৮ম্যাকাওযুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাষ্ট্র-৭রাশিয়াশ্রীলঙ্কা-১সংযুক্ত আরব আমিরাত-৪সাংহাইসিঙ্গাপুর-১৬হংকংয়ের

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
লেখক / প্রতিবেদক

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।