ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়েও টিএসকে 25K পদক জয় শ্যামলীর

প্রায় দু বছর আগে থাইল্যান্ড ক্রস কান্ট্রি চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ফিরেই ধরা পড়েছিল ব্রেস্ট টিউমার। তাতে তিনি মোটেও ভেঙে পড়েননি, বরং নতুন উদ্যমে শুরু করেছিলেন দৌড়। দৌড়…দৌড়…আর দৌড়…এই মন্ত্রেই টিএসকে 25K-তে পদক ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন শ্যামলী সিং। ভারতীয় প্রতিযোগীদের মধ্যে পোডিয়াম ফিনিশ করা একমাত্র বাংলার মেয়ে তিনি।

মেদিনীপুরের কৃষক পরিবারে বড় হলেও বিবাহসূত্রে এখন থাকেন বর্ধমানের রাণীগঞ্জে। শরীরে ক্যান্সারের মত মারণ রোগ বাসা বেঁধেছে জেনেও কেবল মনের জোরকে সঙ্গী করে অংশগ্রহণ করেছিলেন মুম্বই ম্যারাথনে। কারণ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল অর্থ। বাণিজ্য নগরীতে ৪২ কিমি দৌড়ে দ্বিতীয়স্থানে শেষ করেছিলেন শ্যামলী। এরপর পুরস্কারমূল্য দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলেন তাঁর ক্যান্সারের। আর গোটা ঘটনায় সবসময়ের জন্য তাঁর পাশে থেকেছেন যিনি, তিনি শ্যামলীর স্বামী তথা কোচ সন্তোষ। দু’জন মিলেই নিয়েছিলেন চ্যালেঞ্জটা।

ক্যান্সারকে হারিয়ে দু’বছর পর টিএসকে 25K-তে পোডিয়াম ফিনিশ করে উল্লসিত শ্যামলী সাংবাদিক সম্মেলনে গড়গড় করে বলে যাচ্ছিলেন কথাগুলো। তবে পথটা অন্যান্য অনুরাগীদের তুলনায় শ্যমলীর কাছে ছিল আরও দুর্গম। কারণ ১৭ কিমি অবধি ভারতীয় মহিলা প্রতিযোগীদের মধ্যে লিড করছিলেন তিনিই। এরপরই পেটের ডানদিকে হঠাতই ব্যথা অনুভব করেন। দু’বার বমিও করেন রাণীগঞ্জ নিবাসী শ্যামলী। আর সে সুযোগেই শ্যামলীকে ছাপিয়ে পোডিয়াম টপে ফিনিশ করেন কিরণজিৎ কর। ভারতীয় সেনার একজন সক্রিয় কর্মী যিনি। মাত্র ৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে পোডিয়াম টপে ফিনিশ করতে ব্যর্থ শ্যামলীর যদিও কোনও আক্ষেপ নেই তাতে। বরং, আপাতত কেনিয়ায় গিয়ে সেরা কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অপেক্ষায় তিনি।

টিএসকে 25K-র পুরস্কারমূল্য সেই কাজে লাগাতে চান শ্যামলী। কেনিয়ায় প্রশিক্ষণ সেরে এসে মুম্বই ম্যারাথনেও ভালো ফলের প্রত্যাশী তিনি। তবে তার আগে প্রয়োজন ডাক্তারের সঙ্গে শলা-পরামর্শ। শ্যামলী বলছেন, ‘ডাক্তারের পরামর্শ নিতে চাই। তবে ৫,০০০ মিটার, ১০,০০০ মিটার, 10K, 25K, হাফ এবং ফুল ম্যারাথনে অংশগ্রহণ চালিয়ে যেতে চাই।’

প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিলেন রবিবাসরীয় টিএসকে 25K-তে। আর সিলভার লেবেলে উন্নীত হওয়া আন্তর্জাতিক এই ম্যারাথনে নয়া ইভেন্ট রেকর্ড লিখলেন কেনিয়ার লিওনার্দ বার্সোতন এবং ইথিওপিয়ার গুতেনি শোন। ১ঘন্টা ১৩মিনিট ০৫সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে কিংবদন্তি কেনেসিয়া বেকেলের তৈরি করা পুরনো রেকর্ড (১:১৩:৪৮) ভাঙলেন বার্সোতন। মহিলা এলিট বিভাগে ১ঘন্টা ২২মিনিট ০৯সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে নয়া রেকর্ড লেখেন ইথিওপিয়ার গুতেনি শোন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Biswajit Shil
সংবাদ প্রতিনিধি

Biswajit Shil

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।