× Banner
সর্বশেষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্মারক সংবর্ধনা বুড়িগঙ্গায় তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ ভোলায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, তিন কিশোর গ্রেপ্তার টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, তিন মাস পর মিলল মোনিয়ার ঝুলন্ত লাশ শ্যামনগরে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও গণমিছিল জাল দলিলের অভিযোগ-কোটালীপাড়ায় দুই দলিল লেখক সাময়িক বহিস্কার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বেনাপোলে বিএনপির আনন্দ র‌্যালি ও সমাবেশ ডাসারে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পুর্তি উপলক্ষে ঝিনাইদহে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের গণসমাবেশ শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

নড়াইলে বিষমুক্ত সবজি চাষে সংসারে ফিরলো সচ্ছলতা

Ovi Pandey
হালনাগাদ: বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২০

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে বিষমুক্ত সবজি চাষে রাজ কুমার পালের সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা। বিষমুক্ত সবজি হিসেবে রাজ কুমার পালের সবজি বাজারে বিশেষ কদরও পাচ্ছে বলে জানা যায়।
রাজ কুমার পালের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের চরবিলা গ্রামে। বাড়ির সামনের উঠানসহ ৫০ শতাংশ জমিতে শাকসবজি চাষ করেছেন। তিনি জানান এই জমিতে শসা, আলু, শিম, ঝিঙে, টমেটো, ডাঁটাশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, লালশাক, ঢেঁড়স ও বাতাবি লেবু চাষ করেছেন। চাষাবাদে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার।
রাজ কুমার পাল জানিয়েছেন তিনি  ভ্যান চালিয়েছেন কিংবা মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করেছেন আবার কখনো পরের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তবু তাঁর সংসারে অভাব লেগেই ছিল। অবশেষে সবজি চাষ করে তাঁর সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। গত বছর থেকে বিষমুক্ত সবজি চাষ শুরু করেন রাজ কুমার। তবে ওই বছর তিনি কিছুটা লোকসানে পড়েছিলেন। চলতি মৌসুমে তিনি লাভের দেখা পেয়েছেন। ৮ হাজার টাকা ব্যয় করে এ মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের সবজি ফলিয়েছেন।
গত ৫০ দিনে সবজি বিক্রি করে ঘরে তুলেছেন ২০ হাজার টাকা। আরও প্রায় ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হবে।। রাজ কুমার পাল জানান, প্রতিদিন ভোরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জমি থেকে টাটকা সবজি তুলে পরিষ্কার করেন। পরে বাইসাইকেলে করে ১৫ কিলোমিটার দূরে শহরের বাজারে বিক্রি করতে যান। গত বছর পাইকারি দরে বিক্রি করতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার তিনি নিজেই বাজারে নিয়ে সবজি বিক্রি করছেন । এতে তিনি দামও বেশি পাচ্ছেন।
গত বছরের লোকসান এবার উঠে আসবে বএ তিনি জানান। কৃষিকাজে তাঁকে সহায়তা করেন তাঁর স্ত্রী। এ দম্পতির দুই ছেলে কলেজে পড়েন। সাফল্য আসায় আরও বেশি জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন রাজ কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘টাকা সঞ্চয় করে আগামী বছর কিছু জমি কিনব। বেশি জমিতে সবজি চাষ করলে আরও বেশি লাভ হবে।’ রাজ কুমার পালের সাফল্য দেখে গ্রামের আরও কয়েকটি পরিবার বিষমুক্ত সবজি চাষের উদ্যোগ নিয়েছে।
তাঁর প্রতিবেশী ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ‘রাজ কুমার পরিশ্রমী চাষি। তাঁর দেখাদেখি আমরাও বিষমুক্ত সবজি চাষ শুরু করেছি। তাঁর কাছ থেকে সবজি চাষ করার কলাকৌশল শিখেছি।’ প্রতিবেশী রমেশ পালও একই কথা বলেন। শাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজ কুমার অনেক কষ্ট করে ছেলে দুটোকে মানুষ করছেন। শুনেছি, তিনি এলাকায় বিষমুক্ত সবজি চাষ করে শহরের বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
তাঁর কার্যক্রমে গ্রামের অনেকে এখন বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে উপজেলায় ১৫ জন কৃষক বিষমুক্ত সবজি চাষাবাদ করছেন। বিষমুক্ত সবজি বিক্রির জন্য শহরে একটি  নির্ধারিত দোকান রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..