বিধবার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা, সাংবাদিককে শাসন-গর্জন

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি- নওগাঁর ধামইরহাটে দলিল লেখকের কারসাজিতে সাদা কাগজে ৭৪ হাজার টাকার হ্যান্ডনোট নামা সম্পাদন করা হয়েছে। টাকা ফেরত পেতে স্বামী পরিত্যাক্তা বিধবা নারী দারে দারে ধরনা দিয়ে ঘুরছে।

জানা গেছে, উপজেলার ফার্শিপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের সাবেক স্ত্রী মোছাঃ আছিয়া বেগম প্রতিবেশী মৃত আফাজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে রবিউল ইসলাম চৌধুরী’র জমি ক্রয়ের বিষয়ে গত ০৯/০৬/১৫ ইং তারিখে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির বিতর্কিত সদস্য মো. মাসুম বিল্লাহ সাদা কাগজে ১০ টাকা টিকিট বসিয়ে ৭৪ হাজার টাকার চুক্তিপত্র সম্পাদন করে। যেখানে ৫০ হাজারের বেশি হলে ৩শত টাকার ষ্ট্যাম্প ব্যবহার সরকারী নির্দেশনা। সেখানে চুক্তিপত্র সাদা কাগজে হওয়ায় টাকা গ্রহিতা রবিউল ইসলাম চৌধুরী উক্ত টাকার বিষয় অস্বীকার করে স্বামী পরিত্যাক্তা বিধবা নারী আছিয়া বেগমকে দীর্ঘ ২ বছরের অধিককাল হয়রানী করতে থাকে এবং টাকা দিবে না মর্মে আছিয়া বেগমকে হুমকি প্রদান করে।

স্থানীয়ভাবে ও বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে ০৩ জানুয়ারী দুপুরে চুক্তিপত্র লেখক মহুরী মাসুম বিল্লাহকে ডেমি বা ষ্ট্যাম্পে ছাড়া সাদা কাগজে চুক্তিপত্র করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাদা-কাগজে চুক্তিপত্র লিখেছি, আপনার কি রিপোর্ট করার আছে করেন।” ঘটনার কিছুক্ষণ পর পরই অতি উৎসাহী হয়ে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ রবিউল ইসলাম চৌধুরী প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে শাসন-গর্জণ করে বলেন যে, আমি র‌্যাব, সেনাবাহিনী কাউকেই ভয় করিনা, কার কাছে অভিযোগ করবেন করেন, আমার মতামত না নিয়ে রিপোর্ট করলে ভাল হবে না”

প্রকৃত পক্ষে ৩শত টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প ছাড়া এতগুলো টাকার চুক্তিপত্র সম্পাদন পূর্বপরিকল্পিত এবং উক্ত দলিল লেখকের বিরুদ্ধে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস জেলা রেজিষ্ট্রার বরাবর ইতিপূর্বে অনিয়মের অভিযোগ করেন। ধামইরহাট উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মো. তাহাজ্জত হোসেন সাদা কাগজে চুক্তিপত্র নিয়মপরিপন্থি উল্লেখ করে বলেন, ঘটনা যেহেতু আমার সময়ে নয়, তবে বর্তমানে এমন কিছু ঘটবে না।

ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম অতিতে থানা পুলিশ ও প্রশাসনে অভিযোগ করেও কোন দৃশ্যমান ফল পাননি বলে জানান, তবে স্থানীয় সাব-রেজিষ্ট্রারকে ঘটনার সম্পর্কে আইনগত সহযোগিতা করতে উপজেলা প্রশাসন সুপারিশ করেছেন। এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ওসি মু. রকিবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আ. গফুর সম্পাদক ও সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সাদা কাগজে চুক্তিপত্র সম্পাদনের বিষয়ে নিন্দা প্রকাশ করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।