× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

বাবা জীবিত থাকার পরেও এতিম কোটায় চাকুরি করে কোটিপতি

admin
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে: শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের অধিনস্থ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পদে এতিম কোটায় চাকুরীতে যোগদানের এক যুগেই কোটিপতি সহ একাধিক বাড়ি, জমির মালিক ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হয়েছে সিরাজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।

শরীয়তপুর শিশু পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম মাদারীপুর জেলার রাজৈর গ্রামে মৃত মগবুল খানের ছেলে। পিতার মৃত্যু পরবর্তী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর গ্রামের লাইলী বেগমকে অভিভাবক সাজিয়ে ১৯৮২ সালে ১৮ এপ্রিল জন্ম তারিখ দেখিয়ে শরীয়তপুর শিশু পরিবার (এতিম খানা)’য় ভর্তি হয়। শিশু পরিবারে সিরাজুল ইসলামের নিবাসী নম্বর ৬৩।

অপরদিকে মোঃ সিরাজুল ইসলাম ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহন করেছে তাতে মোঃ সিরাজুল ইসলামের পিতার নাম দেখানো হয়েছে ইসমাইল হোসেন তালুকদার। আর জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৭৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর। প্রকৃত পক্ষ্যে মোঃ সিরাজুল ইসলামের পিতার নাম ও জন্ম তারিখ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে। কোনটা সত্য শরীয়তপুর শিশু পরিবার না ড্রাইভিং লাইসেন্স। ড্রাইভিং লাইসেন্স সিরাজুল ইসলামের পিতা মৃত্যু উল্লেখ করা হয় নাই। তা হলে সিরাজের এতিম কোটায় চাকুরী অবৈধ।

জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে সিরাজুল ইসলাম শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা পদে ১৭৫০ টাকা বেসিক বেতনে এতিম কোটায় চাকুরিতে যোগদান করেন। ২০১২ সালে সিরাজ পদোন্নতি পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বনে যান। জুলাই ২০১৫ থেকে তার সর্বসাকুল্যে বেতন দাড়িয়েছে প্রায় ২৩ হাজার টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে ২৩ হাজার টাকায় সংসারের ঘাণি টেনে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া ভূমি কেলেঙ্কারির নতুন আবিস্কার মনে করেছে সুধি সমাজ।

ইতিমধ্যে সিরাজুল ইসলাম শরীয়তপুর শহরের ব্যস্ততম ভিআইপিএলাকা ধানুকা পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বসত বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সিরাজুল ইসলাম তার বর্তমান কর্মরত এলাকা জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন ৩৬ নং লাউখোলা মৌজার বিআরএস প্রস্তাবিত ৮০৩ নং খতিয়ানে ৫১৯, ৫২৬, ৫৬১, ৫৬২, ৪৯ ও ৫১ নং দাগে ২৬ শতাংশ জমির ক্রয় সূত্রে মালিক হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি শরীয়তপুর জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র কিংডম টাওয়ার সংলগ্ন ব-দ্বীপ ডিজিটাল এ্যাড এর পরিচালক হয়েছেন।

সিরাজুল ইসলামের সহকর্মীদের সাথে আলাপকালে জানায়, সিরাজ ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা পদে ৯ বছর চাকুরি করেছে। ৩ বছর হলো ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেয়েছে। ইতিমধ্যে সিরাজ তার বিভিন্ন কর্মস্থলে নামে বে-নামে জমি, বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছে। অথচ সিরাজ এতিম খানায় পড়াশুনা করেছে এবং এতিম কোটায় চাকুরী নিয়েছে। এখন সিরাজ টাকার গরমে পরকিয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সিরাজের স্ত্রী ও শ্বাশুড়ী একাধিকবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছে। সে কারণে সিরাজকে তার কর্মস্থল থেকে বদলী করা হয়। কোন অজানা প্রভাবে সিরাজ পুনঃরায় মূলনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করে তা তাদের জানা নাই।

সিরাজুল ইসলামের বর্তমান প্রতিবেশীদের সাথে আলাপ কালে জানায়, সিরাজ চাকুরী করে ভালই আছে। শহরে বিশাল বাড়ি করেছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকুরি করে তাই উপরি ইনকাম আছে। যাক ছোট থেকেই ছেলেটা অসহায় ছিল। এতিম খানায় পড়াশুনা করে ভাল চাকুরী পেয়ে এখন টাকার মুখ দেখছে। শুনেছি জাজিরায়ও নাকি জমি কিনেছে।

সিরাজুল ইসলামের ছাত্র জীবন শরীয়তপুর শিশু পরিবার (এতিম খানা)’য় তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে প্রতিবেদকের সাথে আলাপ হয় শিশু পরিবারের বড়ভাইসহ কয়েকজন পুরাতন কর্মচারীর সাথে। তখন তাদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, সিরাজ শহরে বড় বাড়ি করেছে। ওর ভাগ্য ভালো। এতিম কোটায় চাকুরীর পর পদোন্নতিও পেয়েছে। মাঝে মধ্যে শিশু পরিবারে আসে। শুনেছি সিরাজ নাকি অনেক টাকার মালিক। আগে দেখা হলে সালাম দিত এখন আর সালাম দেয় না।

শরীয়তপুর শিশু পরিবারের কারিগরি প্রশিক্ষক রবীন্দ্রনাথ হালদার ও অফিস সহকারী এ কাদির মিয়া জানায়, মোঃ সিরাজুল ইসলাম শরীয়তপুর শিশু পরিবারের নিবাসী ছিল। তার নিবাসী নং ৬৩ ও জন্ম তারিখ ১৮ এপ্রিল ১৯৮২।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..