লক্ষ্মীপুরে ইয়াবা সেবনের পর বাড়িঘরে আগুন, পুড়ল ১১ পরিবারের বসতঘর স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, জনরোষের শিকার অভিযুক্ত

লক্ষ্মীপুরে ইয়াবা সেবনের পর বাড়িঘরে আগুন, পুড়ল ১১ পরিবারের বসতঘর স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, জনরোষের শিকার অভিযুক্ত
ইয়াবা সেবনের পর বাড়িঘরে আগুন
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইয়াবা সেবন করে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা এবং পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আগুনে পুড়ে গেছে ১১ পরিবারের বসতঘর। রান্নাঘর, হাঁস-মুরগির খোঁয়াড়সহ ঘরে থাকা ফ্রিজ, টিভি, মোটরসাইকেল, চালের ড্রাম, জামাকাপড় ও বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আগুনে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে রায়পুর উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের আশক আলী বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাড়ির রফিক উল্লাহর নেশাগ্রস্ত ছেলে শনিবার সন্ধ্যায় ইয়াবা সেবন করে তার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত যুবক সারারাত এলাকায় এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করেন। পরে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে পেট্রোল ঢেলে একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নজির আহমেদ, সোহেল, রাসেল, ছিদ্দিক, ইসমাইলসহ ১১ পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ভুক্তভোগী রাসেল আহমেদ বলেন, “হঠাৎ আগুন দেখে আমরা ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণ বাঁচাই। চোখের সামনে আমাদের ঘরবাড়ি ও বছরের পর বছর ধরে জমানো মালামাল পুড়ে গেছে। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
আরেক ভুক্তভোগী ছিদ্দিক বলেন, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে ঘরের কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাইনি। ফ্রিজ, টিভি, মোটরসাইকেল, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় থাকব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, “সন্ধ্যার ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। পরে ভোরে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখি কয়েকটি ঘরে আগুন জ্বলছে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ছিদ্দিক বলেন, “একজনের ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে এতগুলো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, “ভোর ৫টা ২০ মিনিটে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে আগুনের ভয়াবহতা দেখে লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। পরে স্পেশাল টিম ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।”
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক জনরোষের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।