পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ৭ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ৭ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের দাবিতে রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের নেতারা।

তারা বলেন, ২০০৯ সালে তৎকালীন সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প শুরু করেন। যা পরবর্তীতে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প নামকরণ করা হয়। প্রকল্পটিকে স্থায়ীরূপ দিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক গঠন করা হয়।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে ০৮ জুলাই, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রমালিকানাধীন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

০১/০৭/২০১৬ থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত আইন অনুযায়ী প্রকল্পের জনবল ও স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। প্রকল্পটি ৩০/০৬/২০২১খ্রি. তারিখ বিলুপ্ত করা হয়, তার পূর্ব পর্যন্ত ব্যাংকের চলমান কর্মসূচি হিসেবে চলমান ছিল।

যারা ব্যাংক স্থাপনের পূর্বে প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল ছিল, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালনা বাের্ডের ২৪/১১/২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ৫৭তম সভার সিদ্ধান্তক্রমে ০১/০৭/২০১৬ তারিখ হতে প্রকল্পের সেই সব জনবলকে ব্যাংকে স্থায়ীকরণ করা হয়।

যে সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যাংক স্থাপনের পর ২০১৯ সালে প্রকল্পে যোগদান করে, তাদের ০১/০৭/২০২১খ্রি. থেকে স্থায়ীকরণ করা হয়।

“পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (কর্মকর্তা/কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০১৬” প্রণয়ন করা হয়। উক্ত প্রবিধানমালাটি একটি স্ট্যান্ডার্ড ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রবিধান ছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন পতিত স্বৈরাচার সরকার আমাদের সকলের অধিকার খর্ব করে “পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২” প্রণয়ন করেন। যা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কালো আইন হিসেবে অবিহিত করা হয়।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (কর্মকর্তা/কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০১৬ অনুযায়ী যারা কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩), মাঠ সহকারী (গ্রেড-১৪), ক্যাশ সহকারী (গ্রেড-১৪) পদে যোগদানকৃত কর্মচারীদের ফিডার পদ হিসেবে অফিসার সাধারণ বা অফিসার ক্যাশ (গ্রেড-১০) পদে পদন্নোতি দেয়ার বিধান রাখা হয়েছিলো। কিন্তু রাতের আঁধারে তৈরি করা সাংগঠনিক কাঠামো-২০২১ এবং “পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২” অনুযায়ী মাঠ সহকারী ও ক্যাশ সহকারীদের ফিডার পদ জুনিয়র অফিসার (গ্রেড-১২) পদে পদন্নোতি দেয়ার বিধান রাখা হয়। যারফলে মাঠ সহকারী ও ক্যাশ সহকারীদের সরাসরি অধিকার খর্ব করে।

ইতোমধ্যে ১০ম গ্রেডের দাবিতে ১৭৮ জন ক্যাশ সহকারী রীট পিটিশন মামলা দায়ের করলে রিভিউ এর চূড়ান্ত রায় তাদের পক্ষে আসে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রায় সাড়ে আট হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী পদন্নোতি যোগ্য হয়েছে। তাদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হয়েছে। ব্যাংক প্রশাসন উচ্চতর গ্রেড প্রদানেও টালবাহানা করছে। এসব অর্গানোগ্রাম ও প্রবিধান জটিলতায় দীর্ঘ সময় পদন্নোতি না হওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে ব্যাংকে কর্মপরিবেশ বজায় রাখা ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দূরীকরণে নিম্ন লিখিত ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করছি।

সাত দফা দাবি
দফা-১. জাতীয় বেতন স্কেল ও প্রযোজ্য বিধি মোতাবেক যোগ্য সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রাপ্য উচ্চতর গ্রেড অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

দফা-২. পদন্নোতি/১০ম গ্রেড দিতে হবে।
➡ মাঠ সহকারী ও ক্যাশ সহকারী পদে কর্মরত সকল জনবলকে প্রবিধানমালা, ২০১৬ অনুযায়ী ফিডার পদ ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে।
➡ জুনিয়র অফিসার ও কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরতদের উপযুক্ত উচ্চপদে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে।

দফা-৩. বকেয়া ইনক্রিমেন্ট দিতে হবে।
➡ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পূর্বে প্রকল্পে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যাংক স্থাপনের সময় (০১/০৭/২০১৬খ্রি.) থেকেই আর্থিক সুবিধা দিতে হবে।
➡ ব্যাংক স্থাপনের পর প্রকল্পে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগদানের সময় (২০১৯ সালে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারী) থেকেই আর্থিক সুবিধা দিতে হবে।
সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকরিতে যোগদানের দিন থেকেই চাকরিকাল গণনা করতে হবে।

দফা-৪. নতুন প্রবিধানমালা ও অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন করতে হবে।
➡ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রবিধানমালা, ২০১৬ অনুযায়ী নতুন প্রবিধান ও অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন করতে হবে।
➡ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রবিধানমালা, ২০২২ এর সকল কালো ধারা বাতিল করতে হবে।
➡ অফিস সহায়ক পদ সহ সকল পদে নিয়মিত পদোন্নতির বিধান রাখতে হবে এবং অফিস সহায়কদের দ্রুত স্থায়ীকরণ করতে হবে।
➡ নৈশপ্রহরী-কে অফিস সহায়ক পদে রূপান্তর করতে হবে। নৈশপ্রহরী পদে বেসরকারিভাবে/চুক্তিভিত্তিক/আউটসোর্সিং নিয়োগ করতে হবে।

দফা-৫. যানবাহন ও যাতায়াত খরচ ভাতা নিঃশর্তভাবে ৫০০০৬ করতে হবে। মাঠ সহকারী ও ক্যাশ সহকারীদের ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে।

দফা-৬. জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) চালু করতে হবে।

দফা-৭. গৃহনির্মাণ ঋণ ও পারসোনাল ঋণের সিলিং বাড়াতে হবে। পারসোনাল ঋণের সুদ ৫% করতে হবে। বিনাসুদে বাইক লোন দিতে হবে।

সাত দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচিঃ
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রি. তারিখের মধ্যে আমাদের সাত দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য ব্যাংক প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলো।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলেঃ
১. আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রি. রোজ-রবিবার, দুপুর ১২ টায় সারা বাংলাদেশে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর সাত দফা দাবি আদায়ে স্মারকলিপি প্রদান।
২. আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রি. রোজ-সোমবার, দুপুর ১২টায় সারা বাংলাদেশে প্রত্যেক জেলার প্রশাসক বরাবর সাত দফা দাবি আদায়ে স্মারকলিপি প্রদান।
৩. আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর, রোজ- বুধবার ও বৃহস্পতিবার সারা বাংলাদেশে শাখায় শাখায় মানববন্ধন ও পরবর্তীতে ব্যানার শাখায় টানিয়ে রাখা।

আমাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি সমূহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রশাসনের নিকট তুলে ধরতে আপনাদের সহযোগিতা চাই।

এর মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
SDutta
লেখক / প্রতিবেদক

SDutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।