আজ ১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কফি দিবস। কফি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, শ্রমিক, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, পরিবেশকসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবদানকে সম্মান জানানো এবং বিশ্বজুড়ে কফির গুরুত্ব তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কোটি কোটি কাপ কফি পান করা হয়। ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের শুরু, কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততার ফাঁকে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিসরে কফি এখন জনপ্রিয় পানীয়ের একটি।
২০১৫ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক কফি দিবস
আন্তর্জাতিক কফি দিবস পালনের উদ্যোগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা (ICO) যুক্ত। ২০১৪ সালে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর ইতালির মিলানে প্রথম আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কফি দিবস উদযাপন করা হয়।
এরপর প্রতিবছর ১ অক্টোবর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কফি উৎপাদন ও বিপণনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি কফি সংস্কৃতি নিয়ে নানা আয়োজন করা হয়।
কফি উৎপাদনে শীর্ষে ব্রাজিল
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিল। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক কফি উৎপাদন ও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ: প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
কফি উৎপাদনে ব্রাজিলের পর উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইথিওপিয়া। বিশেষ করে ভিয়েতনাম বিশ্ববাজারে কফির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী এবং রোবাস্তা কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত।
অন্যদিকে কলম্বিয়ার কফি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ইন্দোনেশিয়া এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কফি উৎপাদক এবং ইথিওপিয়াকে কফির প্রাচীন উৎসভূমিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কফির উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে লোকগাথা
কফির উৎপত্তি নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত লোককাহিনি রয়েছে। কথিত আছে, নবম শতাব্দীতে ইথিওপিয়ার এক ছাগলপালক কালদি লক্ষ্য করেন, একটি বিশেষ গাছের লাল ফল খাওয়ার পর তার ছাগলগুলো অস্বাভাবিকভাবে চঞ্চল হয়ে উঠছে।
বিষয়টি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে তিনি ওই ফল সম্পর্কে অন্যদের জানান। পরবর্তী সময়ে ফলের বীজ নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পানীয় তৈরির প্রচলন শুরু হয় বলে লোকগাথায় উল্লেখ রয়েছে। তবে কালদির এই কাহিনির ঐতিহাসিক সত্যতা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ব নিরামিষ দিবস আজ: স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতায় উদ্ভিদভিত্তিক খাবারের গুরুত্ব
ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ইয়েমেন ও আরব বিশ্বের মাধ্যমে কফির চাষ ও পানীয় হিসেবে ব্যবহারের বিস্তার ঘটে। পরে অটোমান সাম্রাজ্যের অঞ্চল পেরিয়ে কফি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কফির নানা ধরন
সময়ের সঙ্গে কফি শুধু একটি পানীয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর প্রস্তুতপ্রণালি ও স্বাদেও এসেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। বর্তমানে এসপ্রেসো, ক্যাপুচিনো, লাতে, মোকা, আমেরিকানোসহ নানা ধরনের কফি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়।
কফির স্বাদ, ঘ্রাণ ও প্রস্তুতপ্রণালির ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে গড়ে উঠেছে আলাদা আলাদা কফি সংস্কৃতি।
কফি ও স্বাস্থ্য
কফিতে ক্যাফেইনসহ বিভিন্ন যৌগ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত কফি পান নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারের কথা উঠে এসেছে। তবে কফির উপকারিতা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং পান করার পরিমাণের ওপর নির্ভর করতে পারে।
অতিরিক্ত কফি পান করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কফি পানেও পরিমিতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশেও বাড়ছে কফির জনপ্রিয়তা
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কফি সংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে। একসময় যেখানে চায়ের আড্ডাই ছিল বেশি প্রচলিত, সেখানে বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কফিশপ ও ক্যাফে।
তরুণদের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ফ্রিল্যান্সারদের কাজ কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জায়গা হিসেবে এসব ক্যাফের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশে কফি নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ায় বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি কফি ও প্রস্তুতপ্রণালিও পরিচিত হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক কফি দিবস তাই শুধু একটি জনপ্রিয় পানীয় উদযাপনের দিন নয়; বরং কফির পেছনে থাকা কৃষক, শ্রমিক, উৎপাদক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট মানুষের অবদান স্মরণ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।





