বস্তাভরা পয়সা নিয়ে বিপাকে ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্কঃ গ্রাহক নিতে রাজি না হওয়ায় বগুড়া জেলার প্রায় প্রতিটি ব্যাংকেই স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে এক, দুই ও ৫ টাকার কয়েন। ব্যাংকগুলো ঘুরে জানা গেছে, কোনো গ্রাহকই কাগজের মুদ্রা ছাড়া কয়েন নিতে চাইছেন না। ফলে ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বস্তাভরা কয়েন পড়ে আছে। জেলার ইসলামী ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে পয়সার স্তূপ।

স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে নোট টাকার সাথে বাধ্যতামূলকভাবে পয়সাও নিতে হচ্ছে। ব্যাংক এই পয়সা গ্রাহকদের দিলে তারাও নিচ্ছেন না।

ইসলামী ব্যাংক নন্দীগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক মকলেছার রহমান বলেন, ‘এই উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পয়সা এসেছে। ফলে পয়সার প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ কমেছে।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক নন্দীগ্রাম শাখার ম্যানেজার শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে বিদ্যুৎ বিল, ডিপিএস থেকে শুরু করে প্রতিটি লেনদেনে গ্রাহকরা পয়সা জমা দিচ্ছে। ফলে আমাদের ব্যাংকে পয়সা জমছে। এই পয়সা গ্রাহকরা নিতে রাজি না হওয়ায় আমরাও রীতিমতো বিপাকে পড়েছি। একই সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের কাছে জমা পড়া কয়েন ব্যাংকে দিতে গেলে ব্যাংকও এখন তা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ২০ হাজার টাকার সমমান পয়সা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কীটনাশক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক খোকা মন্ডল। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সবকটি ব্যাংকে পয়সা দিতে গিয়ে ঘুরপাক খেয়েছি। ব্যাংক পয়সা নিতে রাজি হচ্ছে না। ক্রেতারাও পয়সা নিচ্ছে না, পয়সার নাম শুনলেই পিছুপা হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা আমার দোকানে কীটনাশকসহ কৃষি চাষাবাদের সার, ওষুধ নিতে আসে। তারা অনেকেই কাগজের টাকার সাথে খুচরা পয়সা দেয়। আর কৃষকের দেওয়া এই পয়সা নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। পানের দোকানদার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো ব্যবসা করি। ক্রেতাদের পয়সা দিলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। অনেক সময় কথা-কাটাকাটির সৃষ্টি হচ্ছে। এক, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন আমাদের কাছে অনেক আছে। কী করব এই পয়সা দিয়ে। পয়সা নিচ্ছি, কিন্তু কাউকে দিতে পারছি না। তাহলে এই পয়সার মূল্য কী আছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।