বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ, মাঠে ২১ হাজার এন্টি-স্নেক ভেনম ও জরুরি মেডিকেল টিম

বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ, মাঠে ২১ হাজার এন্টি-স্নেক ভেনম ও জরুরি মেডিকেল টিম
বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ

ঢাকা, ১৩ জুলাই: দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সাপের কামড়, পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ ২১ হাজার এন্টি-স্নেক ভেনম

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার এন্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে আরও ১ হাজার এন্টি-স্নেক ভেনম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সরবরাহ করা যায়।

মন্ত্রী জানান, বন্যাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি কলেরা স্যালাইন, ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট খাবার স্যালাইন এবং ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে।

এছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে ৪৪ হাজার ১৭৫টি সিডিসি ডেঙ্গু কিট এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আরও ৭৫ হাজার ৭৪৫টি ডেঙ্গু কিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মেডিকেল স্টোরে (সিএমএসডি) প্রায় এক লাখ নরমাল স্যালাইন ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্যাকবলিত প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল টিম গঠন করে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব টিম প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ওরস্যালাইন বিতরণ এবং নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মনোনীত ফোকাল পারসনরা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখছেন।

মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চল ও চরাঞ্চলসহ বন্যাপ্রবণ এলাকায় পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ মৌসুমি রোগের তথ্য এখন কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ হেল্পলাইন ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে, যেখানে চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।