বগুড়ায় ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা আসাদুজ্জামান নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানা সংলগ্ন বাথরুমে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, আসামি আসাদুজ্জামান বাথরুমে ঢুকে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে পরনের লুঙ্গি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
আসাদুজ্জামান বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে।
পুলিশ জানায়, চালককে হত্যার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই মামলার আসামি ছিলেন আসাদুজ্জামান। চলতি বছরের ২৯ জুন ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ওই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং ১৯ দিন পর গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) আসামি আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার কাছ থেকে নিহত অটোচালকের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আজ রোববার দুপুরে আদালতে তার জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আসাদুজ্জামান আজ রোববার সকালে হাজতখানায় বসে নাস্তা করেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি হাজতখানা সংলগ্ন বাথরুমে যান।
তবে দীর্ঘ সময় পরেও বের না হওয়ায় হাজতখানায় থাকা অন্য এক আসামি বিষয়টি কর্তব্যরতদের জানান। এরপর পরপরই বাথরুমের ভেতরে গিয়ে তাকে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি বাঁধা ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, আসাদুজ্জামানকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানিয়েছেন, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আসামি আসাদুজ্জামান আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে সুরতহাল করা হবে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।