× Banner
সর্বশেষ
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিআইআরএস ও এনআরএস উদ্বোধন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌদির পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করতে চায় সরকার -প্রধানমন্ত্রী প্রগতিশীল ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণে স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা অপরিহার্য – পানি সম্পদ মন্ত্রী জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে – প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কফিল আকামা নবায়ন না করলেও অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে নবায়নের সুযোগ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে – প্রধানমন্ত্রী ‎ বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান সংগীত কর্মসূচি শুরু

প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা সিলেটে বিনিয়োগে আগ্রহী: সিপার আহমদ

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৯

সৌরভ আহমেদ,সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেছেন, ব্যবসায়ীবান্ধব চেম্বার প্রতিষ্ঠিত করতে বিগত দুবছর সবধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের যেমন আস্থা বেড়েছে তেমনিভাবে সিলেট ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রসারে সরকারও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। এছাড়া বেসরকারি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরাও এখন সিলেটে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বুধবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে চেম্বার কনফারেন্স হলে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে সিলেটের সাংবাদিকবৃন্দের সাথে সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা ব্যবসাবান্ধব অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সফল হয়েছি এবং কিছু ক্ষেত্রে হয়তো পুরোপুরি সফলতা আসেনি যেগুলো আগামী কমিটি বাস্তবায়ন করবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

“তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে চেম্বার পরিচালনার জন্য ৪১টি সাব কমিটির মাধ্যমে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এসব কমিটির সহযোগিতায় আমরা ১৫০টি সেমিনার, মতবিনিময় সভা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করে একদিকে যেমন ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধ করেছি তেমনিভাবে সিলেট চেম্বারকে একটি গতিশীল ও মডেল চেম্বার হিসেবে গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়েছি। এসব কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা লাভ করেছি। আমরা সমর্থন পেয়েছি সিলেটের প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।”
সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা, বর্তমান ডিজিটাল ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “সিলেট অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সিলেট চেম্বার কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যবসায়ীদের অনেকগুলো দাবী বাস্তবায়িত হয়েছে। যেমন সিলেটে সহকারী ভারতীয় হাই কমিশন অফিস স্থাপন, সিলেট-ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানের সান্ধ্যকালীন ফ্লাইট চালু, কিপ সিলেট ক্লিন কর্মসূচীর উদ্যোগ গ্রহণ, চাল আমদানীকারকদের সহজ শর্তে এলসি খোলার  সুযোগ, চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথর আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসকরণ, রেলসেবার মান উন্নয়নে রেল মন্ত্রণালয় কর্তৃক উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। যেমন দীর্ঘ ৬ বছর পর সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন, বিনিয়োগকারীদের সিলেটে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সিলেট চেম্বার ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটির উদ্যোগে সিলেটে ও লন্ডনে সেমিনার, প্রতিবন্ধীদের চাকুরীমেলা, সিলেট চেম্বারের নির্বাচিত প্রাক্তন প্রেসিডিয়াম নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, সিলেট চেম্বারের ত্রৈমাসিক প্রকাশনা সেতু প্রকাশ, সিলেটে প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণাপত্র তৈরি, চেম্বার নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু পাচার রোধ, সিলেটে শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেট চেম্বার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মাননা পদক-২০১৭ এবং বিবিডিএন চ্যাম্পিয়নশিপ এওয়ার্ড-২০১৮ লাভ করেছে।”

তিনি এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও দাবী-দাওয়া আদায়ে সার্বিক সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এ. কে. এম. শাহজাহান কামাল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও স্থানীয় প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে সিলেট-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু, কিপ সিলেট ক্লিন কর্মসূচী পুনরায় চালুকরণ, ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নতুন এসি বগি সংযোগ, সিলেটে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালুকরণ সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। সভায় সাংবাদিকগণ সিলেট চেম্বারের বর্তমান কমিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সিলেট চেম্বারের কার্যপরিধি বর্তমানে অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কার্যক্রম সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, আইটি, পর্যটন ইত্যাদি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সাংবাদিকগণ কিপ সিলেট ক্লিন কর্মসূচী পুনরায় চালুকরণ, সিলেট চেম্বারের ভবন বৃদ্ধিকরণ, পর্যটন খাতের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সেল চালুকরণ, শিক্ষার মান উন্নয়নে কর্মসূচী গ্রহণ ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চেম্বার নেতৃবৃন্দকে আহবান জানান।

সভায় আলোচনায় অংশ নেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের নেত্বৃবৃন্দ।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..