প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলগত উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন

প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলগত উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন
https://thenewse.com/গণমাধ্যম-সংস্কারে-নতুন-প/

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি ও কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। দীর্ঘদিন বিএনপির মিডিয়া সেল ও নীতি-কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকা স্বপনের রাজনৈতিক যোগাযোগ, গবেষণা ও প্রচারণা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই পদোন্নতি দিয়ে নতুন এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার প্রথম পুনর্গঠনের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই পরিবর্তনকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে না দেখে সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশলের পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নীতি-কৌশলে ভূমিকা

নতুন দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নীতি প্রণয়ন, রাজনৈতিক কৌশল, যোগাযোগ এবং প্রচারণাসংক্রান্ত কাজে আরও সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলের নীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকার কারণে সরকার তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপদেষ্টা হিসেবে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমনটাই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া ও নীতি-কৌশলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

জহির উদ্দিন স্বপন দীর্ঘদিন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণ এবং যোগাযোগ কৌশল তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল।

দলীয় রাজনীতিতে তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল রাজনৈতিক বক্তব্যকে সুসংগঠিত করা, গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করা।

এই অভিজ্ঞতাই এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নীতি ও কৌশলগত কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় থেকে উপদেষ্টা পদে কেন?

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ফলে স্বপনের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পরিবর্তিত হলেও তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমেছে—এমনটি মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। বরং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁকে আরও কাছ থেকে যুক্ত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন এসেছে বলে আলোচনা রয়েছে।

একজন মন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে স্বপন সরাসরি নীতি প্রণয়ন, রাজনৈতিক যোগাযোগ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সরকারের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন।

জোটের সমীকরণেও পরিবর্তন

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে শুধু ব্যক্তির দায়িত্ব পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের কৌশলগত অংশীদার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে একদিকে জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে সরাসরি কাজ করবেন, অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক দায়িত্ব যাবে জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের হাতে।

এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং জোট রাজনীতির ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

সামনে স্বপনের ভূমিকা কী হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে জহির উদ্দিন স্বপনের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থাকবে। এর মধ্যে সরকারের রাজনৈতিক যোগাযোগ, নীতি-গবেষণা, গণমাধ্যম কৌশল, জনসম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৌশলগত পরামর্শ অন্যতম হতে পারে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক বার্তা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে, সে ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জহির উদ্দিন স্বপনের সরে যাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার অবসান নয়; বরং তাঁকে আরও সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।