এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: তালা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যাপীঠের নাম পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।
এ বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত জ্বরাজীর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। ভবনের ছাদ এতটাই নাজুক যে বাঁশ দিয়ে ছাদ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।
বর্তমান বিদ্যালয়টিতে ১৫৫৬ জন শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করছে। ২৪ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী জেনারেল ও কারিগরি শাখায় নিরলসভাবে শিক্ষাদানে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় অত্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের সম্মান অর্জন করেছে।
বর্তমান বিদ্যালয়ে জ্বরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে রয়েছে। কখন যেন ছাদ ভেঙে মাথায় পড়ে।
এছাড়া এখানে সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অপ্রতুল। লাইব্রেরী ও বিজ্ঞানাগার কক্ষ খুবই ছোট। ১৫৫৬ জন শিক্ষার্থীদের বিপরীতে পর্যাপ্ত বিল্ডিং নাই।
পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য রয়েছে ৬টি টয়লেট। যার দুটি শিক্ষকরাই ব্যবহার করেন। বাকী ৪ টির মধ্যে ২টি অচল, অন্য ২টিতে সকল শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে।
সরেজমিন গতকাল বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় এখানকার শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে ৩ টি বিল্ডিং এর একটি বিল্ডিং খুবই জ্বরাজীর্ণ ও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আর এ জ্বরাজীর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। মাথার উপরে ছাদের প্লাষ্টার খসে পড়ছে।
মরিচা ধরা রড দেখলেই মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়ল ! ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী যুথীকা ঘোষ, রিমা রানী মন্ডল, ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাসেল হোসেন সবুজ এ প্রতিবেদককে জানায়, আমরা ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে লেখাপড়া করলেও বর্তমান বিল্ডিং সংকটের কারণে পরিত্যক্ত ভবনেই ক্লাস করতে হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ১৯২ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে।
পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঐসময় এলাকার শিক্ষানুরাগী মৌলভী আঃ গফুর, আলহাজ্জ্ব মোঃ ফজলুর রহমান বিশ্বাস, খলিলুর রহমান, মহসীন আলী, আবু বক্কর মোড়ল, এসএম হাসান আওরঙ্গী, আলহাজ্জ্ব এবিএম আলতাফ হোসেন, শেখ মফেজউদ্দীন, ডাঃ মোজাম্মেল হক, ডাঃ মোসলেম উদ্দীন, মাওঃ শওকত জাহাঙ্গীর, সিরাজ শেখ, আছাদুল্লাহ মোড়ল এর উদ্যোগে এ বিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
স্থাপনের শুরুতেই একাডেমিক স্বীকৃতি নিয়ে প্রতিবছর মেধাতালিকায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা দৃষ্টান্ত রেখে চলেছে।
প্রায় অর্ধশত বছর বিদ্যালয়টি থেকে মাধ্যমিক গন্ডি পেরিয়ে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী দেশসেবায় নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিবছরই শতভাগ সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকলেও বিশাল ছাত্রছাত্রীর সমন্বয়ে গঠিত বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আজ ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণীকক্ষ সংকটে।
বিদ্যালয়টির অফিস সহায়ক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর অফিস সংরক্ষণে হিমশিম খেতে হয়।
মাঝে মধ্যেই চাকুরী ছেড়ে দেওয়ার মনস্থিরও করেছেন তিনি। সচেতন অভিভাবকদের দাবী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আরো একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া হোক।
গত ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ১৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১২৯ জন সাফল্য অর্জন করে।
এরমধ্যে মেধাতালিকায় A+ পেয়েছে ১০ জন। প্রতিবছরই সে সকল শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষায় সাফল্য ধরে রেখেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল হাই এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, শিক্ষার মান ফলপ্রসু হওয়ায় অভিভাবকরা এ বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে এখন প্রতিযোগিতা করছে।
বর্তমান বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের বিল্ডিং অত্যন্ত জ্বরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বিষয়টি (তালা-কলারোয়া), সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ হোসেনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বারবার জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
পাঠদান অবস্থায় জ্বরাজীর্ণ বিল্ডিংটি ধ্বসে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির আশংঙ্কা করছেন। এর দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, এমপি মহোদয়, সভাপতি এড়িয়ে যেতে পারবেন না।
এবিষয়ে অভিভাবক সদস্য লোকনাথ নার্সিং হোমের পরিচালক পুলক কুমার পাল. এম.এম হায়দার আলী, আব্দুর রহিম সহ একাধিক অভিভাবকদের দাবি যে বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা অর্জনের জন্য পাঠানো হয়েছে সে বিদ্যালয়ে জ্বরাজীর্ণ ভবনে কোন শিক্ষার্থীর ক্ষয়ক্ষতি হলে কর্তৃপক্ষই বহন করবে।



