পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালোচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরও খনির ভেতরে অন্তত ২৪ জন শ্রমিক আটকা রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ
স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, খনির ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের ফলে খনির ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কঠিন হয়ে উঠেছে।
সরকারি খনি পরিদর্শক জানান, বিস্ফোরণের পরপরই কয়েকজন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে খনির ভেতরে আটকে থাকা সবাইকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খনির ভেতরে প্রবেশ করছে। গ্যাসের উপস্থিতি ও ধসে পড়ার ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে উঠেছে। এদিকে, খনির বাইরে আটকে পড়া শ্রমিকদের স্বজনরা উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করছেন।
কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানে সহিংসতা বৃদ্ধি: প্রাণহানি ও নিরাপত্তা সংকট ঘিরে উদ্বেগ
দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারের জন্য ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে বালোচিস্তান প্রাদেশিক সরকার।
প্রাদেশিক খনি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে খনির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কোয়েটা অঞ্চলের কয়লাখনিগুলোতে অতীতেও একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অনেক খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গ্যাস পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা খনি নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।