নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু

নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু

রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ ও দোকান কর্মচারী মোরসালিন (২৬) মারা গেছেন।

২০ এপ্রিল বুধবার রাতে নাহিদের বাবা মো. নাদিম হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শরীফ মুহাম্মদ তারিকুজ্জামান জানান, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ। বেধড়ক মারধরে জ্ঞান হারিয়ে দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়েছিলেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে নাহিদকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।

মাত্র ছয় মাস আগে বিয়ে করা নাহিদ কামরাঙ্গীরচরের রনি মার্কেটের পাশে দেওয়ানবাড়িতে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল এলাকার একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করতেন।

অপরদিকে দোকান কর্মচারী মোরসালিন আজ বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের জেনারেল আইসিইউর ২৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মোরসালিন শ্যালক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মৃত্যুর বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করেন।

গত মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষের সময় নুরজাহান মার্কেটের সামনে ইটের আঘাতে আহত হয়েছিলেন মোরসালিন। পরে শাকিল ও অপর এক যুবক অচেতন অবস্থায় রিকশায় করে মোরসালিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেই দিন হাসপাতালে নিয়ে আসা শাকিল জানিয়েছিলেন, ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষের সময় নুরজাহান মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইটের আঘাতে মোরসালিন আহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

নিহত মোরসালিনের স্ত্রী অনি আখতার মিতু জানান,কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কালাই নগর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর পশ্চিম রসুলপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তার বাবার নাম মৃত মো. মানিক মিয়া।  তাদের হুমাইয়া ইসলাম লামহা (৭) ও আমির হামজা (৪) নামে দু’টি সন্তান রয়েছে।  নিউমার্কেটে একটি শার্টের দোকানে মাসে নয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন তার স্বামী। সেই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলত। মঙ্গলবার সকালে নিউমার্কেটে কর্মস্থলের উদ্দেশে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।