ট্রাম্প এবং মোদি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ!

ট্রাম্প এবং মোদি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ!
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দীর্ঘ ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোন প্রমাণ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। দলের মধ্যে যারা বিখ্যাত নেতা ছিলেন তাদের কেউ দেশে নেই। বেশির ভাগ পালিয়ে ভারতে রয়েছেন আর দুর্নীতিবাজ ভূইফোড় নেতারা নেপাল হয়ে দুবাই আমেরিকা আর ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। অর্থাৎ শেখ হাসিনাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী ভারত থেকে নিয়ে এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাবেন মানুসিকতাটা এমন। যদি তা না হবে তাহলে দেশের ভেতরের সাংগঠনিক তৎপরতার খবর কোথায়?
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির কোন মিটিং বসেনি কিন্তু ৫ই ফেব্রুয়ারী জাতির উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার প্রস্তুতি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কমিটির মিটিং বসেছিল কলকাতায়। আওয়ামী লীগ কি তাহলে প্রবাসী আওয়ামী লীগ হয়ে গেল? আওয়ামী লীগের যত সাংগঠনিক কাজ সব হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং কলকাতা থেকে দেশের মধ্যে সাংগঠনিক কোন কাজ হচ্ছে এমন কোন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুসলিম আওয়ামী লীগের নাম পরিবর্তন করে মুসলিম শব্দটা বাদ দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা তার শাসনামলে বাংলাদেশকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন যে শেখ হাসিনাকে এখন যদি পুনরায় জনগনের কাছে যেতে হয় তাহলে তাকে দলের নাম পরিবর্তন করে আবার মুসলিম আওয়ামী লীগে ফিরে যেতে হবে। দেশের জনগনের মধ্যে শেখ হাসিনার প্রভাব এখনো রয়েছে তবে মাথায় হিজাব পড়ে আসতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ৩২নং ধানমন্ডির বাড়িটি গুড়িয়ে দেয়ার পর পাকিস্তান সরকার তাদের ওয়েবসাইটে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে। ভারত প্রকাশ করেছে উদ্বেগ। এই উদ্বেগ প্রকাশ প্রচলিত একটি কুটনৈতিক নিয়ম। গত ৬মাসে ভারত এক ডজনের ও বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই উদ্বেগ প্রকাশ যে কি কাজে আসে কেউ জানেনা। কাজের কাজ কিছু হয়েছে বলে অন্তত খোলা চোখে কিছু ধরা পড়েনি। তবে ভারতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকা মিডিয়া বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মতামত প্রকাশ করেছে। এগুলোও মিডিয়া ওয়ালাদের একটি রুটিন কাজ।
আপাত: দৃষ্টিতে মনে হতে পারে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যেকোন যুদ্ধের জন্য তো দুটি পক্ষ লাগে। আরেকটি পক্ষ কারা সেটা তো দুরবিন দিয়েও মালুম হচ্ছেনা। এপর্যন্ত বাংলাদেশে যত ঘটনা ঘটেছে তা বিপ্লবীরা ডিক্লেয়ার দিয়ে একতরফা ভাবে ঘটিয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের ডিক্লেয়ারেশন আটকাতে পারেনি।
গ্রামদেশে দুর্বল একগালে চড় খেয়ে বলে আরেকটা দে দেখি তখন সবল কষিয়ে আরেকটা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। শেখ হাসিনার দলের হয়েছে সে দশা। গৃহযুদ্ধ করতে তো একটা প্রতিদ্বন্দ্বী দল লাগবে। এখনো পর্যন্ত সারাদেশে যুদ্ধ করার মতো একটি দল বা গ্রুপ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সারাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কোন সাংগঠনিক তৎপরতা কারো চোখে পড়েনি। বিচ্ছিন্ন ভাবে কোথাও ব্যক্তির প্রভাবে এক/দুইটা ঘটনার পাল্টা হয়েছে। সেখানে দলের কোন প্রভাব ছিলো না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।