ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের প্রচেষ্টায় একটি কান্নার অবসান

আরিফ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহ ॥  অভিনব পন্থায় মটরচালিত অটোভ্যান নিয়ে সটকে যাচ্ছে একটি প্রতারকচক্র। প্রায়ই শোনা যাচ্ছে এধরনের ঘটনা। এতে ধারদেনার মাধ্যমে কেনা উপার্জনের একমাত্র অবলম্ব হারিয়ে নিস্ব হচ্ছে অনেকে।

ভুক্তভোগীদের একজন ভ্যানচালক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জিতোড় ভবানীপুরের আব্দুল কাদের জানান, শনিবার দুপুরে তিনি তার গ্রাম থেকে তার ভ্যানে করে ধান নিয়ে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারে যান। সেখানে ধানের আড়তে মালিকদের কাছে ধান পৌঁছে দিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজার থেকে অল্প দুরে আসলেই মটর সাইকেলযোগে দুই ব্যক্তি এসে নিজেদেরকে খড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে উল্ল্যা গ্রাম থেকে খড়ি নিয়ে সিংড়া বাজারের জন্য তার ভ্যান ভাড়ায় ঠিক করে। দ্রুত খড়ির স্থানে আসার কথা বলে তার মুঠোফোনের নাম্বার নিয়ে মটর সাইকেলযোগে চলে যায়। তাদের কথা মতো তিনি উল্ল্যা দিঘীর কাছে গিয়ে দেখেন সড়কের পাশে সেই দুই জনই দাঁড়িয়ে আছে। এরপর সেখানে ভ্যান রেখে একটু দুরের বিশাল দীঘির বিপরীত পাড়ে খড়ি আছে বলে তা আনতে পাঠায়। স্থান ত্যাগ করার পরেই প্রতারকেরা তার রোজগারের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি নিয়ে সটকে যায়।

খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা হয়ে বিকেলে শহরের নলডাঙ্গা রোডে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভ্যান মালিক আব্দুল কাদের। তার এমন অবস্থা দেখে স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা আব্দুস সালাম জয় তাকে সাথে করে নিয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে থানা পুলিশের এস আই সাইফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার চেষ্টায় রাতে গোপালপুর গ্রামের মধ্যকার একটি সড়কের পাশ থেকে তার ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। তবে প্রতারক চক্রের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

একইভাবে প্রতারকেরা ওই বাজার থেকেই গত ৭ ডিসেম্বর উপজেলার খড়িকাডাঙ্গা গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ভ্যান কলাপাতা নিয়ে কালীগঞ্জে যাওয়ার জন্য ভাড়া ঠিক করে। তাকে নিয়ে উপজেলার হরিগোবিন্দপুর গ্রামের মাঠের রাস্তায় নিয়ে ভ্যান রেখে বরজের মধ্যে পাতা আনতে পাঠিয়ে তারা দুইজন মটর সাইকেল ও ভ্যানের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। এরপর তিনি বরজ থেকে ফিরে এসে দেখেন তার ভ্যানও নেই। এরপর সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডাইয়েরী করেন বলে হতদরিদ্র ভ্যানচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান।

মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, হারানো ভ্যানটিই ছিল তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। তিনি বলেন, ধারদেনার মাধ্যমে প্রায় ৪৩ হাজার টাকায় কিনেছিলেন ভ্যানটি। এখন কি করে ধারদেনা শোধ করবেন আর কি করেই বা সংসার চালাবেন এ কথা বলতে বলতে সাখাওয়াত হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কালীগঞ্জ থানার এস আই সাইফুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী সারাদিনে অনাহারে থাকা ভ্যানচালক আব্দুল কাদেরের কান্না দেখে খুব খারাপ লাগছিল।

তিনি বলেন, বিকালে খবর শোনার পরই তিনি বেরিয়ে পড়েন ভ্যানটি উদ্ধারের জন্য। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে রাতে জামাল ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মধ্যকার একটি রাস্তার পাশ থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করেছেন।

তিনি বলেন, ভ্যানটি হাতে পাওয়ার পর মানুষটির হাসিভরা মুখ তার সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এই প্রতারকদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Biswajit Shil
লেখক / প্রতিবেদক

Biswajit Shil

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।