জাতীয় বিভক্তি আর হিংসাত্মক সংঘাতের রাজনীতির অবসান জাতীয় শোক দিবসের প্রত্যাশা

জাতীয় বিভক্তি আর হিংসাত্মক সংঘাতের রাজনীতির অবসান জাতীয় শোক দিবসের প্রত্যাশা
শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

জাতীয় শোক দিবসের প্রত্যাশা : বঙ্গবন্ধুকে প্রতীক করে জাতীয় ঐক্য গঠনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিভক্তি আর হিংসাত্মক সংঘাতের রাজনীতির অবসান করতে হবে।

৫২ বছর আগে আমরা অন্যের পায়ের তলায় ছিলাম। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত করেছিলেন, স্বাধীনতার কি স্বাদ আর পরাধীনতার কি গ্লানি তা আস্বাদন করতে শিখিয়েছেন; মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়েছেন।

স্বাধীনতা লাভের পর পরই শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আমরা রাজনীতির নামে হিংসা-প্রতিহিংসায় লিপ্ত হয়ে পড়ি। এ হিংসা-প্রতিহিংসার লেলিহান অগ্নি শিখা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলায়। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আশা-আকাঙ্খা। আমরা রাজনীতির নামে হিংসা-প্রতিহিংসায় লিপ্ত হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছি।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের মানুষকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করে দেওয়া। রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষ চিরস্থায়ী করে রাখা।

ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকে তাদের বগলদাবা করে রাখতে। কিন্তু তারা কখনই বঙ্গবন্ধুকে তাদের বগলদাবা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমাদের পরিপূর্ণভাবে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সুসম্পন্ন হয়েছে। এখন স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ দলে দলভুক্ত হয়ে জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত থাকা বাঞ্চনীয় নয়। আমাদের রাজনীতির একটা বিধান থাকা দরকার! জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকা দরকার। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, শোষণমুক্ত সমাজতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। এই চার মূলনীতি ছিল, স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার। এই চার মূল নীতির ভিত্তিতে জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি, এটাই আমাদের চুড়ান্ত পরিচয়।

সুতরাং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রতীক করে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিভক্তি আর সংঘাত-সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে হবে।

ড. সুফি সাগর সামস্, মহাসচিব
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।