লালমনিরহাট কালীগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু মুসা ছোটন ( ৩৫) হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতদের স্বজনরা সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন। নিহত আবু মুসা ছোটন উপজেলার শ্রতিধর হাজির স্কুল এলাকার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে ছিলেন। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) আবু মুসা ছোটনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিলো দুর্বৃত্তরা। হত্যার স্থানে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় লোকজন পলাশ মিয়া (২২) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় জনতা। উপজেলার শ্রুতিধর জামিরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
গত শুক্রবার (৭এপ্রিল, ২০২৩ইং) দুপুরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরে এ মানববন্ধন পালন করেন। মানববন্ধনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছোটন হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং গ্রেফতারকৃত আসামী পলাশের ফাঁসি কার্যকর করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ সময় পরিবারের নিরাপত্তা সহ এজাহারে উল্লিখিত ২৬ জন আসামিকে গ্রেফতারের দাবী জানান।
নিহত ছোটনের মা ছালেমা বেগম বলেন, “সন্তান যার যায় সেই বুঝে তার কি ক্ষতি হয়। আমি মা আমার যে ক্ষতি হয়েছে সেটি কোটি টাকার বিনিময় আরেকটি ছেলে এনে দিলেও সেই সন্তান আর পাবো না।“ হত্যাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসামিরা কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ আমার ছেলে ছাত্রলীগ করতো আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি। তা না হলে আমি কখনো ছেলে হত্যার বিচার পাবো না।
নিহত ছোটনের স্ত্রী বলেন, “আমার দুই শিশুর বাবা ডাকটি যারা কেড়ে নিয়েছে তাদের ফাঁসি চাই।“ এই দুই শিশু বাচ্চার এখন কি হবে । তাদের দায়িত্ব কে নিবে, মামলা দায়ের হওয়ার পর আসামীরা আমার বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রকাশ্যে ও ফোনে হুমকী প্রদান করছেন। আমরা দ্রুত এই বিচার চাই।
এছাড়াও , আবু মুসা ছোটনের বড় ভাই বলেন, ২৬ জনের নামে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করার পর আসামীরা আমাকে হুমকী প্রদান করতেছে । মামলা হওয়ার পর আসামীদের নামের তালিকা আমরা পাওয়ার আগেই আসামীদের হাতে চলে গেছে । কত টাকার বিনিময় এসব তালিকা আসামীদের হাতে দেয়া হয়েছে আমরা জানতে চাই।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমলেন্দু রায় মিন্টু, উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের সভাপতি রেফাজ রাঙ্গা, সাবেক ছাত্র নেতা নুরনবী মেম্বার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম সজিব, কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিষ্টার রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় সর্বসাধারনের একটাই দাবী, আবু মুসা ছোটনের খুনিদের যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় যেন আনে। এবং আদালতের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি যেন দেওয়া হয়। এই শাস্তি দেখে কেউ কখনো যেনো প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যা করতে সাহস না পারে।। যেনো ছোটন হত্যার বিচার জনগণের মাঝে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
উল্লেখ্যঃ এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা ছোটনের মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।





