গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাদেশ্বর নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে ছাত্র শিক্ষক জনতা। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে হাজারো মানুষ মানববন্ধন করে বিচার চেয়েছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সন্ত্রাসীরা ধরা না পড়ায় সর্বমহলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মানববন্ধনের বক্তারা।
গত ২৪ জানুয়ারী বেলা ২টায় ভাদেশ্বর নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা চলাকালীন সময়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রীদেরকে উত্যাক্ত করতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয়। এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়ে বেশ কজনকে আহত করে। সন্ত্রাসীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী ইফতিয়ার হোসেন তাজবীর গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে ৩ দিন চিকিৎসা শেষে তাজবীর বাড়ি ফিরেন। তার হাতে গুরুতর জখম হলে ১৪টি সেলাই দিতে হয়।
এদিকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-অভিভাবক সহ সর্বস্তরের জনগণ মাঠে নেমেছিলেন। ভাদেশ্বর নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনিল চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক তারেক জলিলের পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সেক্রেটারী, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল আহাদ, গভর্ণিং বডির সদস্য আলাউদ্দিন, মঈন উদ্দিন মিনু, হেলাল উদ্দিন হেলু, প্রাক্তন সদস্য ইব্রাহীম আলী খলু, তমিজ উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, এলাকা বাসীর পক্ষে এহতেসাম আবদিন চৌধুরী ফরহাদ, হারুনুর রশিদ, মখসুদ আহমদ চৌধুরী, শিক্ষকদের মধ্যে মাওলানা আইয়ুব আলী, শেখ সেলিমুজ্জামান, রায়হান আহমদ, জামিল আহমদ, তাহের উদ্দিন তাজ্জুব, আজিজ খাঁন প্রমুখ।
এদিকে ঘটনার পর পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুনিল চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভাদেশ্বর পশ্চিমভাগ পশ্চিমটিলার সাহাবউদ্দিনের পুত্র সাহান (২১), দক্ষিণভাগ শেখপাড়ার খালেদ আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহ (২০), জনৈক সাইদুর রহমান অলিদ(২০) সহ ৪/৫ জনকে আসামী করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় আসামী করে মামলা করলে ঐদিনই মামলাটি রেকর্ডভুক্ত হয়, মামলা নং ১৪/১৪ তাং ২৪/০১/২০১৭ইং।
এ ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোন আসামী ধরা না পড়ায় শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। আসামী ধরার ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলী প্রতিবেদককে জানান।


