পত্নীতলায় অঘোষিত লক ডাউন, খাদ্য সংকটে প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষ, সরকারি সহযোতিার দাবী

মো. আবু সাঈদ, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ প্রাণঘাতি অপ্রতিরোধ্য করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সারা দেশের মতো নওগাঁর পত্নীতলায় চলছে অঘোষিত লকডাউন। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারীর ও নিজেদের নিরাপত্তার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না মানুষ। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ফুটপাতের দোকানপাট ও চায়ের দোকান।

রাস্তায় জনসমাগম কম থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে রিক্সা-ভ্যাল চালকের আয়। এ অবস্থায় প্রান্তিক খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। ঋণের কিস্তি বন্ধ থাকলেও পরিবার-পরিজনের মুখে দু-বেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান করায় তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংকটকালীন সময়ে জীবণ টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পত্নীতলা উপজেলায় প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের বাস। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষই প্রান্তিক। এই উপজেলায় প্রায় ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস। যাদের প্রধান পেশা কৃষি মজুর। অন্যান্যরা ইট ভাটার শ্রমিক, চা স্টল, রিক্সা-ভ্যান চালনা, দোকান কর্মচারী, ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ২৫ মার্চ থেকে স্থানীয় প্রশাসন দোকনপাট বন্ধ করে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে না যাওয়ার জন্য মানুষকে আহবান জানান। এ কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনচলাচল। রাস্তায় সীমিত হয়ে পড়ে যান চলাচল। বন্ধ হয়ে গেছে দুরপাল্লার গাড়ি। জেলা সদরের সাথে সরাসরি উপজেলার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়ার মানুষের আয়। চরম বেকায়দায় পড়েছে প্রান্তিক মানুষরা।

এ বিষয়ে গৃহকর্মী মনোয়ারা জানান, তিনি ৪টি বাসায় কাজ করতেন। ইতিমধ্যে ২টি বাসার মালিক কাজে আসতে নিষেধ করেছেন। তাঁরা কাজ না করা দিনের টাকা দিবেন কিনা জানিনা। ভ্যান চালক কালাম জানান, প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে রাতে তিনি ৪/৫শত টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। ২/৩দিন ধরে ১শত থেকে ১শত পঞ্চাশ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরছেন। পরিবারের ভরণ পোষণ করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদে ব্যবসায়ী ছালাম জানান, ব্যবসা ছোট হওয়ায় তিনি প্রতিদিন মহাজনের নিকট হতে মালামাল ক্রয় করে বিক্রয় করতেন। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এছাড়া আরো কয়েকজন দিনমজুর ও ক্ষুদ্রে ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তাঁরা একই রুপ কথা বলেছেন এবং তাদের পরিবারের খাদ্য সংকট নিরসনে সরকারি ভাবে সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন।

করোনার কারণে আয় রোজগার বন্ধ হয়ে প্রান্তিক মানুষ খাদ্য সংকটে পড়লেও এখনও পর্যন্ত তাদের সহযোগিতার জন্য রাজনৈতিক বা সামাজিক কোন সংগঠনকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সরকারিভাবে জেলা ভিত্তিক বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ২/৩দিনের মধ্যে এই বরাদ্দ হাতে পেলে তাঁরা বিতরণ করতে পারবেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।