কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি চরাঞ্চলে কৃষকের ফসল নষ্টের আশংকা

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি চরাঞ্চলে কৃষকের ফসল নষ্টের আশংকা
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের  নদ-নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে বোরো ধান, পেয়াজ, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত । এর মধ্যে নিচু এলাকার ক্ষেত এর পুরো ফসল নষ্টের আশঙ্কা  করছেন কৃষক। তবে কৃষি  বিভাগ বলছে নতুন করে উজানের ঢল না আসলে এবং  বৃষ্টিপাত কমে গেলে ক্ষতির পরিমান কিছুটা কমতে পারে।
চৈত্র মাসে অসময়ে বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী চরগুলোতে বোরো ধান, পিয়াজ, ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, পটল, ঝিংগাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে । অসময়ে পানি চলে আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। ধার দেনা করে লাগানাে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তার চরের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, এনজিও থেকে লোন নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে পিয়াজের আবাদ করেছি। কিন্তু বৃষ্টি ও উজানের ঢলে চরের জমিতে পানি ঢুকে সব নষ্ট হয়ে গেছে।
চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, চরের জমিতে মরিচ, পটল চাষ করেছি, ঝিংঙা চাষ করেছি। সব অসময়ের পানিতে তলিয়ে শেষ হয়ে গেছে।অন্যান্য বছর এ সময় পানি না আসলেও এবার এসব শেষ করে দিল।
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ধরলার পাড়ের কৃষক ইয়াকুব আলী জানান, নদীর পাশে প্রায় এক একর পরিমান জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। সব তলিয়ে গেছে। সামান্য কিছু কেটে আনতে পারছি। বাকী সব পানির নীচে।
বোরো ধান পুরোপুরি না পাকলেও নদ-নদীর অববাহিকার অনেক কৃষক গরুর খাদ্যের জন্য পানিতে তলিয়ে থাকা আধাপাকা ধানেই কেটে ঘরে আনছেন। সার, কীটনাশক, বীজসহ সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ করে চরের পলি জমিতে লাগানো বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অনেক কৃষকের।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশীদ জানান, জেলার নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার চরাঞ্চলে প্রায় ৬শ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়েছে। তবে উজানের পানি আসা কমে গেলে এবং অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাত কমে গেলে ক্ষতির পরিমান কিছুটা কমতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।