কুরবানী সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত নির্দেশ জেনে নেই

কুরবানী সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত নির্দেশ জেনে নেই

ঈদের দিনে একজনে জিজ্ঞেস করলো আপনিতো কোরআন পড়েন তবে গরু কুরবানী দেওয়ার কথা কোথায় লেখা  আছে অনুগ্রহ করে বলবেন কি? সর্বপ্রথম বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্রের কোরআর দেখে গরুর কথা কোথাও পেলাম না। তবে উটের কথা লেখা আছে। কয়েকজনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিজ্ঞেস করে উত্তর পেলাম না। তাই আমার জানার বিষয়টি লিখে প্রকাশ করলাম। কুরবানী সম্পর্কে কুরআনে কি বর্ণিত আছে জেনে নেই

গিরিশ চন্দ্রের প্রথম বাংলা অনুবাদিত কোরানে সূরা(১০৮) কাওসারের ২ নং আয়াতে কী বলা আছে দেখুন,

“অনন্তর তুমি আপন প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড় এবং উষ্ট্র বলিদান কর।”

এই আয়াতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে, উটকে কুরবানী করতে; উট ই যে কুরবানী করার বিধান, সেই নিদর্শন আছে মুহম্মদ(সাঃ)র জীবনীতেও; কারণ,মুহম্মদ(সাঃ) শেষ বার হজ করতে যাওয়ার সময় ৭০টা উট নিয়ে গিয়েছিলো এবং মুহম্মদ(সাঃ) নিজের হাতে ৬৩টা উট জবাই করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে পরে আলী বাকি উটগুলোকে জবাই করে। এছাড়াও ভৌগোলিক কারণে আরবে কোনো গরু নেই, কোরান হাদিসের এই সাক্ষ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, কুরবানী যদি করতে হয়, করতে হবে উটকে; কারণ, এটাই কোরানের নির্দেশ এবং নবীর সুন্নত। আর এটাও সারা পৃথিবীর যত্রতত্র করা যাবে না, এ ব্যাপারে কোরানের সুরা(২২) আল হাজ্জ ৩৬ নং আয়াতে বলা আছে- সেই বলির উষ্ট্র, তাহাঁকে আমি তোমাদের জন্য ঈশ্বরের(ধর্মের) নিদর্শন ও তোমাদের জন্য তন্মধ্যে মঙ্গল স্থাপন করিয়াছি, অনন্তর দণ্ডায়মান অবস্থায় তাঁহার উপর(বলিদান কালে) তোমরা ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করিও, পরে যখন পার্শ্বভাগে সে পড়িয়া যায় তখন তাহা ভক্ষণ কর, এবং প্রার্থী ও অপ্রার্থী(ফকিরদিগকে) ভোজন করাও, এইরূপে আমি তোমাদের জন্য তাহাঁকে বশীভূত করিয়াছি, সম্ভবতঃ তোমরা ধন্যবাদ করিবে।

কোরানের সুরা(২২) আল হাজ্জ ৩৩ নং আয়াতে বলা আছে স্থান নির্দেশ আছে এবং সেটা হলো-

“এই সমস্ত আনআমে তোমাদের জন্য নানাবিধ উপকার রয়েছে এক নির্দিষ্ট কালের জন্য; অতঃপর উহাদের কুরবানীর স্থান প্রাচীন গৃহের (কাবা) নিকট।”

এ থেকে স্পষ্ট যে কুরবানী করতে হবে কাবা ঘরের নিকট এবং তা শুধু মাত্র হজ করতে গিয়ে; কারণ, এটাই কোরানের নির্দেশ এবং নবীর সুন্নত।

আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে প্রধানত যে পশু কুরবানী করা হয়, সেটা হলো উট; আর দ্বিতীয়ত ভেড়া জাতীয় দুম্বা। উট কুরবানীর কথা বলা আছে কোরানে, এছাড়াও মুহম্মদ নিজে কখনো উট ছাড়া কিছু কুরবানী করে নি। কিন্তু উটের পাশাপাশি দুম্বা কুরবানীর কারণ হলো, ইব্রাহিম-ইসমাইলের কুরবানীর ঘটনায় ইসমাইলের পরিবর্তে নাকি কুরবানী হয়েছিলো দুম্বা; সেই জন্য উট ছাড়াও দুম্বা কুরবানী দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু অন্য কোন পশুর নাম নেই।

এছাড়াও আমরা জানি, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ হলো- কালেমা, নামাজ, রোযা, হজ, যাকাত। এগুলোর মধ্যে কালেমা কোনো অনুষ্ঠান নয়, বিশ্বাস, যা আচরণে প্রদর্শিত না হলে দেখা যায় না; কিন্তু অন্য চারটি স্তম্ভ হলো অনুষ্ঠান। এই চারটি স্তম্ভের মধ্যেও কুরবানী নেই।

কাহারও বিস্তারিত কিংবা ব্যতিক্রম জানা থাকলে অবশ্যই মতামত জানানোর অনুরোধ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।