বর্ণবৈষম্য ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ২৫ বছর আগে বিশ্ব যে অঙ্গীকার করেছিল, তা বাস্তবায়নে এখনো অনেক পথ বাকি বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান।
সোমবার জাতিসংঘে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার (ডিডিপিএ) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইরিন খান বলেন, ২৫ বছর আগে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় জাতি, বর্ণ, বংশপরিচয় এবং জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে বৈষম্যের শিকার না করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছিল। তবে সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো সম্ভব হয়নি।
তিনি ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, দাসপ্রথা, ঔপনিবেশিক শাসন এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক অবিচার থেকে তৈরি কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে ন্যায়বিচার, শিক্ষা, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া অভিবাসী, শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ, সংখ্যালঘু, নারী, শিশু এবং বিভিন্নভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রসঙ্গে আইরিন খান বলেন, নতুন প্রযুক্তিকে ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার কাজে ব্যবহার না করে টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও ব্যবহারে মানবাধিকার, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার নীতিগুলো নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ক্ষেত্রেই মানুষের বৈচিত্র্য, অধিকার ও মর্যাদা সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।





