ঐতিহাসিক নিদর্শন স্বরূপ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের প্রস্তাবে উচ্ছাসিত কিউবার রাষ্ট্রপতি

দি নিউজ ডেক্সঃ বাংলাদেশ ও কিউবার দুই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু ও ফিদেল ক্যাষ্ট্রোর বন্ধুত্বকে স্থায়ী রূপ দেয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার কিউবার রাজধানী হাভানায় ঐতিহাসিক নিদর্শন স্বরূপ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের প্রস্তাবে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য স্থাপনের প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রপতি ব্যারমুডেজ এ প্রস্তাবে তাঁর উচ্ছাস প্রকাশ করেন এবং এব্যাপারে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন যে, কিউবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দুটি দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের স্মারক হয়ে থাকবে এবং দুদেশের জনগণ ও সরকারকে এ বন্ধন আরো উচ্চতায় নিয়ে যেতে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

ব্রাজিলে নিযুক্ত এবং বলিভিয়া, চিলি, কিউবা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সমবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জুলফিকার রহমান সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অকুন্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানকারী কিউবায় সেদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষ্যে গত ০৬ই ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে কিউবার রাষ্ট্রীয় বিপ্লব প্রাসাদে  আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল মারিও ডিয়াজ-কানেল ব্যারমুডেজ-এর কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-প্রদত্ত পরিচয়পত্র পেশ করেন.

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও কিউবার জাতীয় সঙ্গীতের মূর্ছনায় কিউবার সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকষ দল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার কিউবার জাতীয় বীর জোসে মার্তির ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাষ্ট্রদূত জুলফিকার কিউবার রাষ্ট্রপতির সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনাকালে বাংলাদেশ ও কিউবার ঐতিহাসিক সম্পর্ক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কিউবার শর্তহীন সমর্থন, বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কিউবার মহান নেতা ফিদেল ক্যাষ্ট্রোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আধুনিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিষয়েও তিনি কিউবার রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রাষ্ট্রপতি ব্যারমুডেজকে ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্স জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাষ্ট্রোর সাথে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন। কিউবান নেতা কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সাথে তুলনা করেছিলেন সে প্রসঙ্গটিও তিনি তুলে ধরেন। কিউবার রাষ্ট্রপতি বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবহিত বলে জানান এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

হাভানায় অবস্থানকালে রাষ্ট্রদূত জুলফিকার কিউবার রাষ্ট্রপতি ছাড়াও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনাকালে বাংলাদেশ ও কিউবার মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করেন। স্বাস্থ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, শিক্ষা, কূটনৈতিক প্ৰশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে আগামী দিনগুলোতে সহযোগিতার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
লেখক / প্রতিবেদক

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।