এলডব্লিউজি সনদ না পাওয়ায় চীনের কাছে জিম্মি চামড়া রপ্তানি

এলডব্লিউজি সনদ না পাওয়ায় চীনের কাছে জিম্মি চামড়া রপ্তানি

চামড়া রপ্তানির জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ না পাওয়ায় বর্তমানে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানি করে না বলে জানিয়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার এখন চীনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এর কারণ সাভারের হরিণধরা ট্যানারি এস্টেটের কেন্দ্রীয় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্টের (ইটিপি) মাধ্যমে সেখানকার চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় উৎপাদিত দূষিত পদার্থ পরিশোধন হচ্ছে না। বিষাক্ত ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন তরল দূষিত পদার্থ ধলেশ্বরী নদীতে পড়ছে। এই দূষণের কারণে চামড়া রপ্তানির জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আর সনদ না পাওয়ায় অর্ধ প্রক্রিয়াজাত কাঁচা চামড়া (ওয়েট-ব্লু) নামমাত্র মূল্যে চীনের কাছে রপ্তানি করতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ।

চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দূষণ বন্ধ করে এলডব্লিউজি সনদ পাওয়া গেলে চামড়া রপ্তানির বাজার বর্তমান সোয়া বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের মধ্যেই কমপক্ষে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। আগে বাংলাদেশের ওয়েট-ব্লু চামড়া ভারতে রপ্তানি হতো, এখন তা শুধু চীনে হচ্ছে। এর কারণ ভারত এই ওয়েট-ব্লু চামড়া, আরেকটু প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিশ্বমানের চামড়া উৎপাদন করছে।

বর্তমানে প্রতি বর্গফুট অর্ধ প্রক্রিয়াজাত বা ‘ব্লু-ওয়েট’ চামড়া চীনে ৭০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু সেই চামড়া যদি দেশে প্রক্রিয়াজাত করে ফিনিসড হিসাবে বিক্রি করা হয়, তাহলে একই পরিমাণ চামড়া আড়াই ডলার দিয়ে বিক্রি করা যাবে বলে জানিয়েছেন এই খাতের শিল্পপতিরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।