উপাচার্য হয়েও নিয়মিত ক্লাস নেন ডঃ আরেফিন স্যার

সুব্রত ঘোষঃ বাংলাদেশের কোন শিক্ষক উপাচার্যের দায়িত্বে থাকাকালীন একই সাথে বিভাগে ক্লাস নেন এমনটা আমার জানা নেই। কিন্তু, সকল প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এত ব্যবস্থার মাঝেও এই উপাচার্যকে নিয়মিত ক্লাসরুমে দেখা যায়। ক্লাস শেষে উপাচার্যের অফিসে অনেক শিক্ষার্থীই এসে বলে- ‘স্যার, ক্লাসে বিষয়টি বুঝতে পারেনি..।’ আবার, কেউ এসে বলে- ‘স্যার একটু দেরিতে আসায় আমার এ্যাটেনডেন্স মিস হয়ে গেছে..!’ তিনি তার অফিসে বসেই শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান দিয়ে দেন। উদারতা, সরলতা, নির্মোহ, নির্লোভী ও বিচক্ষণতার মূর্ত প্রতীক এই শিক্ষক।

সকাল হোক, দুপুর হোক কিংবা গভীর রাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর যখনই জরুরি প্রয়োজন তিনি ছুটে যেতে পারেন উপাচার্যের কাছে। এমন উপাচার্য দেশে একজনই আছেন। তিনি ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। আমাদের আরেফিন স্যার।

আরেফিন স্যার একমাত্র উপাচার্য যিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত আট বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিনও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকেনি। সেশনটজট পুরোপুরি দূর হয়েছে। আরেফিন স্যারই একমাত্র উপাচার্য যিনি উপাচার্য হয়েও ক্লাস নিয়েছেন। এখনো নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উপাচার্য যখন নি‌জের সব প্রাপ্য টাকা নি‌য়ে উল্টো বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের আপ্যায়ন ভাতা, বৈশাখি ভাতা আত্মসাৎ ক‌রেন, তখন নিজের প্রাপ্য কোটি টাকা নে‌ননি একজনই। তিনি আরেফিন স্যার।

আরও আছে। এ দেশের উপাচার্যরা যখন নিজের আত্মীয়স্বজন শালাশালী এমনকি নিজ এলাকার লোকজনকেও নিয়োগ দিতে ব্যস্ত থাকেন, কখনো টাকার বিনিময়ে, কখনো স্বজনপ্রীতি করে তখন শুধু আরেফিন স্যারই কখনো এলাকাপ্রীতি দেখাননি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।