ঈদ বাজারে ভারতীয় পোশাকের কদর, দেশী পোশাকের অনদার

মেহের আমজাদ, মেহেরপুরঃ ভারতীয় পোশাকের দাপটে মেহেরপুরের ঈদ বাজারে কদর কমেছে দেশী পোশাকের। ঝিলিক, পাখি, কিরণমালার পর বাজার দখল করেছে সারারা নামের পোশাক। ভারতীয় সিরিয়ালের এসব পোশাক কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। পোশাকের উচ্চ মূল্যে নাভিঃশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের প্রথম থেকে বেচা কনো ভাল। তবে শুল্ক দ্বীগুন হওয়ার কারণে বেড়েছে আমদানিকৃত পোশাকের দাম।

রমজানের শুরু থেকে মেহেরপুরে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। বাবা-মায়ের সাথে শিশুরাও ছুটছেন দোকানে দোকানে। কিনছেন পছন্দের পোশাক। বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও বাজার দখল করে নিয়েছে ভারতীয় পোশাক। স্টার জলসা সহ বিভিন্ন হিন্দি সিরিয়াল ও সিনেমার নামে বাজারে এসেছে এসব পোশাক। সিরিয়ালে আসক্ত নারীরা নায়িকাদের পরিহিত পোশাকে যেন আসক্ত হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র পাখি, কিরণমালা’ই নয়, নাগিন, ঝিলিক, সারারা সহ বিভিন্ন নামে ভারতীয় সব বাহারি পোশাক শোভা পাচ্ছে মেহেরপুরের অভিজাত বিপনী বিতানগুলোতে। ক্রেতাদের চোখ এসব বাহারি পোশাকের উপর। যুগের সাথে তাল মেলাতে ক্রেতারা ঝুঁকছেন এসব পোশাকের দিকে। গুনগত মান যাই হোক, শুধু নামের কারণে এসব পোশাক বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দাম নিয়ে অভিজাত মানুষের কোন অভিযোগ না থাকলেও বাজারে এসে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের। আবার মেয়েরা শাড়ি কেনার বদলে ঝুঁকছেন বাহারী সব থ্রী পীচের দিকে। পাশাপাশি গরমের কারণে চাহিদা বেড়েছে সূতি কাপড়ের।

মেহেরপুর বড়বাজারে পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ইয়াসমিন আক্তার জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে মেয়েরা শাড়ির পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের থ্রী পীচ কিনছেন। এছাড়াও শাড়ি এখন বিভিন্ন উৎসবের পোশাক হয়ে পড়েছে। ফলে শাড়ির ব্যবহার দিন দিন কমছে। এবার ঈদে ভারত থেকে আসা বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রী পীচ নজর কেড়েছে তাদের। ফলে দাম যাই হোক তারা এসব  থ্রী পিচগুলো কিনছেন।

ঈদের মার্কেট করতে আসা ফারহানা সূমি জানান, গেল বছরের বাজেট নিয়ে বাজারে এসেছেন। অথচ বাজেট অনূযায়ী পছন্দের পোশাকটি কিনতে পারছেন না। প্রতিটি জিনিসের দাম চড়া। সামনে ঈদ পছন্দের পোশাকটি কিনতেই হবে। তাই পোশাকের দাম যায় হোক ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রিয়জনদের জন্য পছন্দের পোশাকটি কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

অমি ফ্যাশানের স্বত্তাধিকার আলমগীর হোসেন সেন্টু জানান, ক্রেতাদের চাহিদা অনূযায়ী তারা এবার ভারত ও চীন থেকে পোশাক আমদানি করেছেন। দেশের চাইতে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা সবচাইতে বেশি। লেহাঙ্গা কুর্তী, স্যালোয়ার কামিজ এবং ছেলেদের পাঞ্জাবীর চাহিদা রয়েছে বেশ। তবে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ও হিন্দি সিনেমার নামে নতুন করে আসা মেয়েদের সাহার, ব্যাং ব্যাং টু, সুলতান নামের পোশাকের চাহিদা সব চাইতে বেশি।

ক্রেতা হাফিজুর রহমান জানান, ভারতীয় টিভি চ্যানেলের হিন্দি ও বাংলা সিরিয়ালের কারণে কদর কমছে বাংলাদেশের দেশীয় পোশাকের। সিরিয়ালে আসক্ত ছোট ছোট শিশু ও নারীরা এসব পোশাকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। গেল বছরের দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝিলিক ও পাখী পোশাকের জন্য অনেকের আত্মহত্যার খবরও পাওয়া গেছে। আর এ কারণে হুমকিতে পড়েছে দেশীয় পোশাক শিল্প।

পোশাকের দাম বেশির কথা স্বীকার করে বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও জামান বস্ত্রালয়ের সত্ত্বাধিকারী মনিরুজ্জামান দিপু জানান, শুল্ক দ্বীগুন হওয়ার কারণে আমদানিকৃত পোশাকের দাম চড়া। যে পোশাকের দাম গেল বছর ৫’শ টাকা ছিল সেই পোশাকের দাম এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকাতে । আবার পরিবহণ ভাড়ার পাশাপাশি পোশাক তৈরীর কাঁচা মালের দাম বাড়ার কারণে এর প্রভাব বাজারে এসে পড়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। তবে ব্যবসা ভালো চলছে এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা ভালো রয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।