মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্বর্ণখনি ধসে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে দেশটির নানা-মাম্বেরে প্রিফেকচারের আব্বা অঞ্চলে একটি ছোট পরিসরের স্বর্ণখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খনিটি ছিল মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক বা কারিগরি পদ্ধতিতে পরিচালিত একটি খনি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ধসে পড়া খনি থেকে অন্তত ৩০টি মরদেহ বের করে আনা হয়। আহত কয়েকজন শ্রমিককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শ্রমিক জানান, ধসের পর আরও কয়েকজন খনির ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সময়ের সঙ্গে কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস: ছবির ফ্রেমে অমর হয়ে থাকে সময়, স্মৃতি ও ইতিহাস
স্থানীয় উপ-প্রশাসনের ডেপুটি মেয়র সুলেমান বি উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ছোট পরিসরে স্বর্ণ উত্তোলন একটি ব্যাপক কর্মকাণ্ড। তবে এসব খনিতে অনেক সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে না। ফলে খনি ধসসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক বেশি।
আরও পড়ুনঃ বিশ্ব মানবতা দিবস আজ: সংকটে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান
এর আগে মাত্র কয়েক দিন আগেও আফ্রিকার আরেকটি খনি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি খনি-ডাম্প ধসে ১৪ জন অপ্রাতিষ্ঠানিক খনি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে খনি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আফ্রিকার অপ্রাতিষ্ঠানিক স্বর্ণখনিগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

