দিল্লিতে সাম্প্রতিক সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সোসাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ভারতবিরোধী ইউটিউব চ্যালেল গুলো বাধভাঙ্গা উচ্ছাসে ভাসছে। মনে হচ্ছিলো এটা ভারতের কোন ব্যাপার নয় এটা বদরের যুদ্ধে ইসলামের বিজয় সূচিত হয়েছে।
সংসদ অভিযান চলাকালে প্রতিবেশী দেশের কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ অভিযান চলাকালে ভীত হয়ে সংসদ ভবন ত্যাগ করেছিলেন। এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় প্রায়ই অতিরঞ্জিত তথ্য ও রাজনৈতিক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এসেছে তারপর থেকেই তাদের হায়-হুতাশের শেষ নেই কবে নরেন্দ্র মোদির পতন হবে আর ভারতে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো সরকার কায়েম হবে আর সবাই লুটেপুটে খাবে। হিন্দু মেয়েদের বাদী বানাবে দিল্লির লালকেল্লায় কালেমার পতাকা উত্তোলন করবে মোদীর গলায় লোহার বেড়ি পরিয়ে টানতে টানতে সিপাহশালার দরবারে হাজির করবে। ভারতে আবার মুসলিম শাসন পুন:প্রতিষ্ঠিত হবে। কি মজাই না হবে। এই মনোভাব শুরু প্রতিবেশী বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের নয় ভারতেও এর প্রভাব কোন অংশে কম নয়।
আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা চলছে। কিছু সংগঠন প্রকাশ্যে কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন মত ও সংগঠনের অংশগ্রহণ একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।
ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের উত্থানের পর থেকেই হিন্দুত্ববাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলমান। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ও সমর্থকদের একাংশ মোদি সরকারের নীতির সমালোচনা করে আসছে, অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকরা এটিকে ভারতের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য ও প্রতিবাদ স্বাভাবিক হলেও ধর্মীয় বিদ্বেষ, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং যাচাইহীন তথ্য সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে। ভারতের মতো বহুত্ববাদী সমাজে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।