অতীতে বিএনপির জয় আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারেনি বলেই শেখ হাসিনা দেশান্তর

অতীতে বিএনপির জয় আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারেনি বলেই শেখ হাসিনা দেশান্তর
বিএনপির এই জয় অতীতে আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারেনি বলেই শেখ হাসিনাকে আজ দেশের বাইরে থাকতে হলো। বিএনপির জনপ্রিয়তার নিরিখে তাদের এই জয় আরও আগে পাওয়া উচিত ছিলো অন্তত তাদেরকে সে সুযোগ দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সে সুযোগ বিএনপিকে দেননি। উন্নয়নকে ঢাল করে তিনি ইসলামের খলিফা হতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি কারণ ঐতিহ্যগত ভাবেই এই দেশ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ হিসাবে পরিচিত।
আওয়ামী লীগ মুখে অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বললেও অন্তরে ছিলো সাম্প্রদায়িক মনোভাব। যার পরিনতিতে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আজ নিশ্চিহ্নের পথে। শেখ হাসিনা ইসলামের খলিফা হতে চেয়েছিলেন কিন্তু হলেন কাফের। বিএনপির এই জয় প্রত্যাশিতই ছিলো। এটাই প্রকৃতির বিচার।
তারপরও শত চেষ্টা করেও দেশকে কিন্তু ইসলামিকিকরন করা যায়নি। কারণ এই দেশের মাটি প্রকৃতি ইসলামের কট্টর পথকে সমর্থন করেনা। পাকিস্তান আমলেও এই দেশ ইসলামের কড়াল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়নি। কারণ প্রাকৃতিক ভাবেই এই দেশ কামার কুমার চাষির মিলিত অগ্রযাত্রায় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত ছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা তারই ফলশ্রুতি।
কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার অতীত ভুলে গিয়েছিলো। যে চেতনায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর সে চেতনা ধূলিসাৎ করে দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র ইসলামের মরিচিকায় পথ চলে। দেশ থাকবে ধর্ম থাকবে কিন্তু কোন বিদ্বেষ থাকবেনা। ইসলাম বিদ্বেষ প্রমোট করে কিন্তু ব্যতিক্রমও আছে। সভ্যতার বিবর্তনে অনেক ইসলামি দেশ কট্টর পন্থা থেকে ফিরে এসেছে। আর বাংলাদেশ নুতন করে কট্টর ইসলামে ফিরে যেতে চাইছে। কিন্তু ভূ-প্রকৃতি জানিয়ে দিলো এমাটি কট্টর ইসলামের মাটি নয়।
গনতন্ত্রকে গলা টিপে ধরে শেখ হাসিনা যে ভুল করেছেন তার প্রায়শ্চিত্ত এই জাতিকে কড়ায়গণ্ডায় করতে হবে। দেশ এখন ৩টি ধারায় বিভক্ত হয়ে গেলো। দেশ এখন আর শুধু বাঙালি জাতীয়তাবাদের দেশ নয় সাথে সংযুক্ত হলো বাংলাদেশি এবং ইসলামি জাতীয়তাবাদ। দেশ পিছিয়ে গেলো হাজার বছর। এই দেশ আর পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মনস্তাত্ত্বিকভাবে যেভাবে দেশের মানষের চিন্তা চেতনায় মননে ইসলামের কট্টর পন্থাকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে তাতে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলো ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গতিধারা মুখ থুবড়ে পড়বে।
ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনাকে সরানো হয়েছে এটা ঠিক কিন্তু ষড়যন্ত্রের এই সুযোগটা আওয়ামী লীগই সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ যদি একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম না করতো তাহলে ষড়যন্ত্রীরা সে সুযোগ পেত না।
শেখ হাসিনা শুধু দলের বা নিজের ক্ষতি করেনি দেশ ও জাতির যে ক্ষতি তিনি করে গেলেন তার প্রায়শ্চিত্ত এই দেশের পরের প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের করতে হবে। শুধু উন্নয়ন দিয়ে একটি জাতি একটি মতাদর্শ টিকে থাকতে পারেনা যা শেখ হাসিনা হাতেকলমে দেখিয়ে দিয়ে গেলেন। তিনি যদি আদর্শ ঠিক রাখতে পারতেন তাহলে তাকে হয়তো ক্ষমতার লোভ ছাড়তে হতো কিন্তু দেশ জাতি বেঁচে যেত। শেখ হাসিনা অবর্তমানে দেশের এই উন্নয়নের কথা কেউ বলবেনা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।