হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিন্দু হতে পারে না কেন?

হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিন্দু হতে পারে না কেন?

হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কল্যাণসহ সার্বিক কল্যাণ সাধন; সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কার্য পরিচালনা। তবে হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিন্দু হতে পারে না কেন?

বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির সদস্য পদটি ভাইস চেয়ারম্যান পদের চেয়ে বড় এবং উচ্চতর মর্যাদাসম্পন্ন। তবে কেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর আন্ডারে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়কে হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হল।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট–এর চেয়ারম্যান হিন্দু নন কেন—এই প্রশ্নটি মূলত প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট সাধারণত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়–এর অধীন পরিচালিত একটি সরকারি সংস্থা। এর চেয়ারম্যান পদে সরকার যাকে নিয়োগ দেয়, তিনি সবসময় ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন না; অনেক সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীকে কিংবা সরকারের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

Hindu Religious Welfare Trust Ordinance, 1983 (Ordinance No. LXVIII of 1983) রহিতক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক পুনঃপ্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

৫। (১) নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত ০২ (দুই) জন সংসদ-সদস্য, যাহারা সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যানও হইবেন;

(গ) সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়; এবং

(ঘ) হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে, প্রত্যেক বিভাগের অন্যূন ০২ (দুই) জন করিয়া, সরকার কর্তৃক মনোনীত ২১ (একুশ) জন ট্রাস্টি।

(২) সচিব, ট্রাস্টি বোর্ডের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৩) সরকার উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এর অধীন মনোনীত ট্রাস্টিগণের মধ্য হইতে ১ (এক) জনকে ভাইস-চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনীত করিবে।

(৪) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এর অধীন মনোনীত ট্রাস্টিগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে ট্রাস্টি হিসাবে বহাল থাকিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে সরকার কোনো মনোনীত ট্রাস্টিকে কোনরূপ কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে তাহার দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) এর অধীন মনোনীত কোনো ট্রাস্টি যে কোনো সময় চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে ট্রাস্টির দায়িত্ব পরিত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৬) ট্রাস্টি পদে কেবল শূন্যতা বা ট্রাস্টি বোর্ড গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

তবে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একটি অংশ দাবি করে আসছে যে, যেহেতু এটি হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও মন্দির ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাই এর নেতৃত্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকা উচিত। তাদের যুক্তি হলো—সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি, আচার-অনুষ্ঠান ও বাস্তব সমস্যাগুলো একজন হিন্দু নেতা বা অভিজ্ঞ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বেশি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণত বলা হয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ট্রাস্ট; তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সরকারি নীতির বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, ধর্মীয় পরিচয়কে নয়।

এটি মূলত একটি নীতি ও প্রতিনিধিত্বের বিতর্ক—যেখানে একদিকে রয়েছে “রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ”, অন্যদিকে “সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের দাবি”।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।