তৃতীয় বারের জন্য শপথ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “আমার প্রথম গুরুত্ব করোনা। তার পর কঠোর হাতে রাজ্যের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো সাজিয়ে নেওয়া।” প্রসঙ্গত রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যে আর নীরব থাকবেন না, সেই বার্তাই বুধবার শপথ গ্রহণের পর রাজভবন থেকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, “রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে আবেদন জানাচ্ছি। বাংলা সংঘর্ষ সমর্থন করে না। আমিও করি না। আমি কঠোর হাতে আইনশৃক্ষলা রক্ষা করব। কেউ অশান্তি করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবো না।”
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, করোনা নিয়ে তিনি জরুরি সিদ্ধান্ত বিকেল তিনটায় জানাবেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন তিনি আনবেন আজই। কেননা গত প্রায় তিন মাস নির্বাচন কমিশন রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছিল।
আর এর পরই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর (Jagdip Dhankar) রাজ্যের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নির্বাচনের পর খারাপ হচ্ছে বলে বক্তব্য রাখেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি আমার ছোট বোন হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রত্যাশা করব, তিনি রাজ্যে নির্বাচনের পর সৃষ্টি হওয়া সংঘর্ষের পরিস্থিতি রুখতে প্রয়োজনীয় ও জরুরি ব্যবস্থা নেবেন। রাজ্যে নির্বাচনের পর যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তাতে আর্ত মানুষ, মহিলা, শিশুরা বিপন্ন। আমার আশা মুখ্যমন্ত্রী গণতন্ত্রের বিধি মেনে সবাইকে সুরক্ষিত করবেন।”
পরই মুখ্যমন্ত্রী আবার বলেন, “গত তিন মাস রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের হাতে ছিল। আমি আজ সবটা নতুন করে সাজিয়ে নেব। কঠোর হাতে আমি রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখবো।”
রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও উপস্থিত ছিলেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অসুস্থতার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। এদিকে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, “আমাদের দলের মানুষদের মার্চে, আমি তাই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যায়নি।’ তবে অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানিয়েছেন তিনি কোনও আমন্ত্রণ পাননি।



