মরা মেয়ের লাশের পাশে মা সাত দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জের নেতাজিনগর এলাকায় সকাল থেকেই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পড়শিরা। গন্ধের উৎস খুঁজতে নেমে তারা বুঝতে পারেন, বন্ধ ফ্ল্যাটেই কিছু রয়েছে। যার ভাঙা জানালার ফাঁক দিয়ে দুর্গন্ধ আসছে। সন্দেহ হওয়ায় খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজা খুললে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে পড়ে পচাগলা এক নারীর দেহ। আর তার সামনে বসে হাত জোড় করে কেঁদে চলেছেন এক বৃদ্ধা। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না তিনি। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

পুলিশ জানায়, মৃত নারীর নাম মাম্পি নাথ (৪৩)। মায়ের নাম জলি নাথ। মা ও মেয়ে নেতাজিনগরের এক তিনতলা আবাসনের দোতলায় থাকতেন। পড়শিরা জানান, জলি নাথকে মাঝেমধ্যে রাস্তায় দেখা গেলেও পাঁচ বছরে কোনো দিন তার মেয়ে মাম্পিকে দেখা যায়নি। তদন্তকারীদের অনুমান, অন্তত দিন সাতেক আগেই মৃত্যু হয়েছে মাম্পির।

পড়শিরা জানান, বছর দশেক আগে নেতাজিনগরে ফ্ল্যাট কিনে বসবাস শুরু করেন জলি নাথরা। মা-মেয়ে নিজেদের মতোই থাকতেন। পাড়ায় বা নিজেদের আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গেও মিশতেন না। তার স্বামীকেও কোনো দিন দেখা যায়নি। স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, পাঁচ দিন ধরে একবারের জন্য জলি নাথ ঘর থেকে বের হননি। পুলিশ আসার পর দরজা খোলেন। মাস ছয়েক আগে তাদের ঘরে আগুন লেগেছিল। তখন পুলিশ ও দমকলকর্মীরা এসে একইভাবে দরজা খুলেছিলেন বলে জানান বাসিন্দারা।

এ ঘটনার তদন্তকারীরা জানান, ঘরের মেঝেতে ছিল মাম্পির দেহ। তার একটি চোখ খোবলানো ছিল। দেহ ফুলে গিয়েছিল। দেহের চারপাশে মাছি আর পোকা কিলবিল করছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মা-মেয়ে দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন।

আবাসনের বাসিন্দা রেখা বলেন, ‘১০ বছর ধরে এক বাড়িতে আছি। অথচ মা-মেয়ের সঙ্গে এক দিনও কথা হয়নি। সব সময় ঘরের দরজা বন্ধ থাকত।’

নীলাঞ্জনা সান্যাল নামে একজন মনোবিদ জানান, ‘মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের সম্পর্ককে বলা হয় “সিমবায়োটিক রিলেশন”। মা এই ক্ষেত্রে সন্তানের থেকে নিজের অস্তিত্বকে আলাদা করে ভাবতে পারেন না। দুজনের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পৃথক অস্তিত্ব গড়ে না ওঠার জন্যই এই ধরনের সমস্যা হয়।’

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।