× Banner
সর্বশেষ
বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক -বাণিজ্যমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ, এমপিও শিক্ষক ও ঋণখেলাপিরা অযোগ্য মোদির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশি ব্যবহারের প্রতিবাদ আট অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ভ্যালু-বেইজড শিক্ষা, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ-প্রাথমিক শিক্ষার নতুন অগ্রাধিকার -প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য হয়রানীমুক্ত বিমান সেবা নিশ্চিতে আমরা বদ্ধ পরিকর -বিমান মন্ত্রী ২০২৭ সালের হজে বিমান ভাড়া কমলো ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা লক্ষ্মীপুরে সড়ক সংস্কার কাজে দায়িত্বে অবহেলায় ৪ পৌর কর্মকর্তাকে শোকজ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য ভূমিসেবা সহজ করার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর  গৃহবধু লামিয়া আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় শ্বশুর ও দুই ননদ গ্রেফতার

নিজে গুলি খেয়ে নেতাজীকে বাঁচিয়েছিলেন কর্নেল নিজামুদ্দিন, মোদি তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: রবিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২০

সময়টা ১৯৪৪। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা, দেহরক্ষী, গাড়ির চালক কর্ণেল নিজামুদ্দিন। কর্ণেল নিজামুদ্দিনের আসল নাম ছিল সইফুদ্দিন। নিজামুদ্দিন নামটাও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর দেওয়া। নামের আগে কর্নেল থাকলেও তিনি সেনাবাহিনীর কেউ নন। ভারতের স্বাধীনতার অন্যতম পুরোধা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ছিলেন তিনি। আসল নাম সইফুদ্দিন। স্নেহবশত নেতাজি তাকে কর্নেল নামে ডাকতেন।

মায়ানমারের জঙ্গলে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে চা খাচ্ছিলেন। হঠাৎ ধেয়ে এল গুলি নেতাজীকে লক্ষ্য করে। ঝাঁপিয়ে পড়ে নেতাজী সরিয়ে দিলেন নিজামুদ্দিন। কিন্তু নিজেকে পারলেন না সরাতে। নেতাজীকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া গুলি এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল নিজামুদ্দিনের শরীর।

আজমগড়ের মুবারকপুরের ঢাকুয়া গ্রামে ১৯০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন নিজামুদ্দিন ওরফে সইফুদ্দিন। বাবা ইমান আলি সিঙ্গাপুরে একটি ক্যান্টিন চালাতেন। গ্রাম ছেড়ে তিনি বাবার কাছে চলে যান। পরে সেখানেই তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগদান করেন। ১৯৪৩-৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজে ছিলেন। ধীরে ধীরে নেতাজীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাকে প্রথমে দেহরক্ষী পরে গাড়ির চালক হিসাবে নিযুক্ত করেন নেতাজী। তাকে কর্ণেল নিজামুদ্দিন নাম দেন নেতাজী। কর্ণেল নিজামুদ্দিন নিজে গাড়ি চালিয়ে নেতাজীকে পৌছে দিয়ে এসেছিলেন মায়ানমারের বেতাই নদীর তীরে। সেখান থেকে সাবমেরিনে চেপে জাপান চলে যান নেতাজী। যাওয়ার সময় নেতাজী রেজিমেন্টের দায়িত্ব দিয়ে যান কর্ণেল নিজামুদ্দিনের ওপর। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠাভরে পালন করেছিলেন কর্ণেল নিজামুদ্দিন।

 নিজামুদ্দিন ও মোদী

কখনও নেতাজীর গাড়ির চালক হয়েছেন, তো কখনও প্রয়োজনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন, অথচ ইতিহাসে যাঁদের কথা তেমন করে লেখা থাকে না, তিনিও তাঁদের মধ্যে একজন।

তখনকার সময়ে প্রত্যেকের কার্বনকপি বা ডুপ্লিকেট অনেকেই থাকতেন । নেতাজীর ছিলেন ১৬ জন। তার মত দেখতে এবং হুবহু তার মতই সেজে ১৬ জন ঘুরে বেড়াতেন। আসল নেতাজী কে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। নেতাজী বা তাদের মত বিপ্লবীরা যে পথ দিয়ে জেতেন তার আগে তাদের নকলরা সেই রাস্তা দিয়ে কয়েকবার জেতেন বিপদের সম্ভবনা আঁচ করতে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বারাণসীতে ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজামুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন ও তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। নেতাজির মৃত্যু আজও রহস্যাবৃত। তবে কর্নেলের মতো কয়েকজনের স্মৃতিতে অমলিন ছিলেন তিনি। সদা জাগ্রত ছিল নেতাজির আদর্শ। যা তিনি বরাবর ছড়িয়ে দিয়েছেন তার উত্তরসূরিদের মধ্যেও। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৬ বছর। তার প্রয়াণ যেন তাই সেই দীর্ঘ পরম্পরাতেই পূর্ণচ্ছেদ।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..