× Banner
সর্বশেষ
সরকার শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণে বুথ ভাড়া মওকুফ করা হবে – বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শ্যামনগরে দুই ক্লিনিককে মোবাইল কোর্টে জরিমানা আগস্টে শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ‘আবাসন মেলা’ বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে – আফরোজা নতুন কুঁড়ি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন সিলেট-রংপুর নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে – মহিলা পরিষদ কালীগঞ্জের পত্রিকা বিতরণকারী জাহাঙ্গীরের মৃত্যু

ডেস্ক

ইংলিশ চ্যানেল জয়ী দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সাঁতারু ব্রজেন দাস জন্মদিন আজ

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২
সাঁতারু ব্রজেন দাস জন্মদিন

ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরিয়ে অতিক্রমের গৌরবের অধিকারী দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সাঁতারু ব্রজেন দাস জন্মদিন আজ। ১৯২৭ সালের ৯ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের অন্তর্গত কুচিয়ামোড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে পড়ালেখা শেষ করে তিনি ১৯৪৬ সালে ঢাকার কে.এল জুবিলি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং কোলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে আই.এ এবং বি.এ পাস করেন।

ব্রজেন দাস ছেলেবেলা থেকেই সাঁতারে পারদর্শী ছিলেন। তিনি সাঁতার চর্চা করতেন বুড়িগঙ্গা নদীতে। শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকায় ফিরে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ক্রীড়া ফেডারেশনকে বার্ষিক সাঁতার প্রতিযোগিতা চালু করতে উদ্বুদ্ধ করেন। এরকম একটি প্রতিযোগিতা প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। এটি সহ দেশের উল্লেখযোগ্য প্রায় সকল সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্রজেন দাস নিজেকে একজন সেরা সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে অনুষ্ঠিত ইংলিশ চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আমন্ত্রিত হন। এতে সাড়া দিয়ে তিনি শীতলক্ষ্যা এবং উন্মত্ত মেঘনায় সাঁতার চর্চা করে নিজেকে তৈরি করেন এবং একসময় নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত সাঁতরিয়ে অতিক্রম করেন। তখনকার দিনে স্টিম শিপ এ দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় নিত।

ইংলিশ চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অব্যবহিত পূর্বে ব্রজেন দাস ভূমধ্যসাগরে কাপ্রি থেকে নেপ্লস সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এই প্রতিযোগিতায় অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সাঁতরিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য তাঁর আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় করে। ইংলিশ চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় ২৩টি বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগী অংশ নেয়। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রতিযোগী ছিলেন ব্রজেন দাস। এই সাঁতার শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালের ১৮ আগস্ট মধ্যরাতে, এবং তা শেষ হয় পরদিন শেষ বিকেলে। অনেকেই ক্লান্ত হয়ে মাঝপথেই ক্ষান্ত দিলেও ব্রজেন দাস সংকল্পে অটুট থেকে অগ্রগামীদের একজন হয়ে সাঁতার শেষ করেন এবং ইতিহাসে নিজের নাম লেখান।

ব্রজেন দাস সর্বমোট ছবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন: ১৯৫৮, ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬১ সালে। ১৯৬১ সালে ১০ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ এই তিন বছরে ব্রজেন দাস সর্বমোট ছয়বার ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরিয়ে অতিক্রম করেন। ১৯৬১ সালের অভিযানে তিনি সময় নেন সাড়ে দশ ঘণ্টা। এর পূর্বে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরিয়ে অতিক্রম করার সর্বনিম্ন রেকর্ড সময় ছিল ১০ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। ব্রজেন দাস ১৯৭৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার এবং ১৯৯৯ সালে স্বাধীনতা পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন। তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৯৮ সালের ১ জুন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..