ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পোর্ত দ্য ক্লিশি এলাকায় ৩১বছর বয়েসি এক আলজেরিয়ান মুমিন ৩ মহিলাকে ছুরিকাহত করে এই কথা বলেছেন। দু’হাতে ধরা দু’টো লম্বা ছুরি। জনবহুল রাস্তায় সেই জোড়া ছুরি দিয়েই পরপর তিন মহিলাকে এলোপাথাড়ি কোপ! প্রকাশ্য দিবালোকে এমনই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটে গেল প্যারিসে। আল্লাহর নির্দেশে ৩ মহিলাকে ছুরিকাঘাত করেছি
সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে প্যারিসের পোর্ত দে ক্লিশি এলাকায়।
প্রাক্তন এক পুলিশকর্মীর নেতৃত্বে পথচারীরাই কোনও মতে পাকড়াও করে ওই আততায়ীকে। তারপর? পুলিশের সামনে আততায়ী যে বয়ান দিয়েছে, তাতে শুধু প্যারিস নয়, আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা ফ্রান্সেই! আল্লার নির্দেশেই সে নাকি রাস্তায় বেরিয়ে এ ভাবে বেছে বেছে মেয়েদেরই মারতে চেয়েছিল।
সূত্রের খবর, যে তিন জন মহিলাকে সে ছুরি মারে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বাও। আহতদের কারও নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে জানা গিয়েছে, তাঁদের বয়স ১৯, ২৪ ও ৩৬। তিন জনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দু’জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় মিডিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই জনবহুল রাস্তায় ছুরি হাতে নিয়ে তেড়ে যায় ওই যুবক। ভয়ানক সেই ঘটনার ভিডিয়ো করেন এক পথচারী। সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। ভাইরাল হয়েছে ওই আততায়ীকে পাকড়াও করার ভিডিয়োও। সেখানে দেখা গিয়েছে, হামলার খানিকক্ষণের মধ্যেই আততায়ীকে স্থানীয়দের সাহায্যে কব্জা করে ফেলে পুলিশ। তখনই ছুরি হাতে ওই ব্যক্তি বলতে থাকে, ‘আল্লা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেই এই কাজ করেছি।’ আপাতত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। কেন কী উদ্দেশ্যে এই হামলা হল, সেই নিয়ে এখনও তদন্ত করছে ফরাসি পুলিশ। অভিযুক্তর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
আততায়ীকে ধরার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমজনতারই, বলছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অফ ডিউটি এক পুলিশকর্মীর নেতৃত্বেই পথচারীরা ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করেছে। এক ব্যক্তি সুটকেস ছুড়ে মারেন আততায়ীর দিকে। সেই আঘাতেই তার হাত থেকে ছুরি পড়ে যায় এবং অনেকে মিলে ধরে ফেলেন আততায়ীকে। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশের টিমও। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে লাগাতার অসংলগ্ন মন্তব্য করছে অভিযুক্ত। তাতে সমস্যা বাড়ছে তদন্তে।
ফ্রান্সের মতো একটি সভ্যদেশে এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সারা পৃথিবীতে এখন আর কেউ নিরাপদ নেই। ৩ মহিলার সাথে আততায়ীর কোন পারিবারিক শত্রুতা ছিলো না তাদের একমাত্র অপরাধ তারা অমুসলিম। একটি বিশেষ ধর্মের নির্দেশে তাদের এই পরিনতি হয়েছে।
এসব ঘটনা নিয়ে ইউরোপের দেশগুলো যে খুব চিন্তিত এমন মনে হয়না। কারণ পুলিশ আততায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলছে লোকটির কথা অসংলগ্ন বলে মনে হচ্ছে। যা সাধারণত বাংলাদেশের মতো দেশে ঘটলে পাগল বলে ছেড়ে দেয়ার মতো। একজন লোক দুইহাতে দুটি ছুড়ি নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়া ৩ মহিলাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে বলছে আমি আল্লাহর নির্দেশে এই কাজ করেছি আর সে লোকটি মানসিক ভাবে অসুস্থ বলার মধ্যে যে শৈথিল্য তাতেই বুঝা যাচ্ছে ইউরোপিয়ানদের ঘুম এখনো ভাঙেনি।




