প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালকে শিগগিরই জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। এর মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক সক্ষমতাও বাড়বে।
আজ ঢাকার শ্যামলীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালটিকে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দ্রুত পূরণ হবে শূন্যপদ
হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকট দূর করা জরুরি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রোগীদের মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
৫০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ
হাসপাতালের সেবার পরিধি ও সক্ষমতা বাড়াতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ।
এ ছাড়া হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং সেগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবাসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিটি রোগীর সঙ্গে মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো রোগী যাতে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও উপপরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিক, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সভায় অংশ নেন।





