× Banner
সর্বশেষ
বিরোধীদের সমালোচনার মাঝেও মোদীর পাশে NDA শরিকরা, প্রশংসায় পবন কল্যাণ ও নাইডু এমবিউমোর জোড়া গোলে স্ন্যাপড্রাগন কাপ জিতল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ইন্টারের কাছে ট্রফি হারাল সিটি যেসব এলাকায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা, ৩ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত আজ ২ আগস্ট বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২ আগস্ট (১৬ শ্রাবণ) রবিবারের দিনপঞ্জি  ও ইতিহাসের এইদিনে মেহেন্দীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া ২৮টি বেওয়ারিশ গরু নিলামে বিক্রি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার – বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দিল বিএনপির স্থায়ী কমিটি জুলাই শহীদ-আহতদের পরিবারকে সুখবর দিলেন ভূমিমন্ত্রী

সাহরি ও ইফতারে সাধারনত আমরা যে ভুলগুলো করে থাকি

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০
সাহরি ও ইফতার

জেনে নেই সাধারনত আমরা সাহরি ও ইফতারে যে ভুলগুলো করে থাকি।

সাহরির ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো হয়  

১. সাহরি না করা : ঘরে খাবার থাকার পরও পানি বা অন্য কিছু দিয়ে নামমাত্র সাহরি করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরি করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ও অন্যান্য কিতাবের অধিকারী জাতির (ইহুদি ও খ্রিস্টান) রোজার পার্থক্য সাহরি খাওয়া।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৪০)

২. শেষ মুহূর্তে সাহরি খাওয়া : অর্ধ রাতের আগে বা আজানের আগমুহূর্তে সাহরি খাওয়া উভয়টিই সুন্নাতের পরিপন্থী। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাহরি বিলম্বে গ্রহণ করো।’ (সুনানে তিবরানি)

সহিহ বুখারিতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহরি ও নামাজের মধ্যে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকত। আধুনিক যুগের ফকিহদের মতে, পঞ্চাশ আয়াত তারতিল তথা যথানিয়মে ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করতে বিশ মিনিট সময় প্রয়োজন হয়।

৩. আজান শোনার পরও খেতে থাকা : রোজা একটি ফরজ ইবাদত, তাই তাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। সুতরাং আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে খাবার পরিহার করতে হবে।

৪. সাহরিতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা : সাহরিতে অধিক খাবার গ্রহণ বান্দাকে রোজার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করে দেয়। যেমন—শরীরে আলস্য তৈরি করে। ফলে ইবাদতমুখী হতে পারে না, জৈবিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়, অনাহারী মানুষের কষ্ট অনুভব করা যায় না।

আল্লামা ইবনে হাজার আস্কালানি (রহ.) বলেছেন, মানুষ স্বাভাবিক ক্ষুধায় যতটুকু খাবার গ্রহণ করে, সাহরিতে সেই পরিমাণ খাওয়া মুস্তাহাব। অর্থাৎ খুব বেশি বা কম নয়; বরং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। (মাজমাউল উলুমি ওয়াল হিকাম)

৫. খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া : এটা সুন্নাতের পরিপন্থী এবং স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। অন্তত মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে ফজরের নামাজ আদায় করে মসজিদে ইবাদত করতেন, সাহাবিদের দ্বিন শেখাতেন। সূর্যোদয়ের পর ইশরাকের নামাজ আদায় করে ঘরে ফিরতেন।

ইফতারে যে ভুলগুলো হয়

১. দেরিতে ইফতার করা : ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ার পরও ইফতার না করা। সাংসারিক কাজ বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দ্রুত ইফতারকারী কল্যাণ লাভ করতে থাকে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

২. আজান শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা : ইফতারের জন্য আজান শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা। অথচ অপেক্ষা করতে বলা হয়নি। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান। কঠোরতা চান না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

৩. আজানের উত্তর না দেওয়া : ইফতারের সময় আজানের উত্তর প্রদান না করা। রাসুলে আকরাম (সা.) রোজাদার ও রোজা নয় এমন সব ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা যখন আজান শুনবে, মুয়াজ্জিন যেমন বলে তেমন বলবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৪৯)

৪. ইফতারে অধিক সময় ব্যয় করা : ইফতারের জন্য বেশি সময় ব্যয় করা, নামাজ আদায়ে দেরি করা, জামাতে অংশগ্রহণ না করা নিন্দনীয়। সহিহ মুসলিমে ইবনে আতিয়্যা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী রাসুল (সা.) সামান্য ইফতার গ্রহণ করে দ্রুত নামাজ আদায় করে নিতেন।

৫. ইফতারের সময় দোয়া না করা : ইফতারের সময় আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করেন, অথচ অনেকেই দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেয় না। বিশেষত নারীরা ঘরের কাজেই ব্যস্ত থাকেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। পিতামাতার দোয়া, রোজাদারের দোয়া ও মুসাফিরের দোয়া।’ (মুসনাদে আহমদ)

৬. ইফতারে অপচয় করা : অতিরিক্ত খাবারের আয়োজন করা এবং তা অপচয় করা। খাবারের জৌলুস রোজার সংযম ও ধৈর্যের শিক্ষার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলাও অপচয় পছন্দ করেন না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা খাও ও পান করো। অপচয় কোরো না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)। আল্লাহ তাআলা সবাইকে ইফতার ও সাহরির ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..