রাষ্ট্রপতির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পায়নি সনাতনী সম্প্রদায়

রাষ্ট্রপতির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পায়নি সনাতনী সম্প্রদায়

প্রতিবছর সনাতন ধর্মালম্বীদের জন্মাষ্টমী ও বিজয়া দশমী দিনে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে সনাতন ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। বর্তমান নতুন রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা গ্রহণ করে সনাতনীদের মিলন মেলায় অংশ নেবার সুযোগ দেননি। চিকিৎসার নামে জন্মাষ্টমী ও বিজয়া দশমীর দিনে বিদেশে অবস্থান করেছিলেন। চলতি বছর রাষ্ট্রপতির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পায়নি সনাতনী সম্প্রদায়। রাষ্ট্রপতির সাথে শুভেচ্ছা

সনাতন ধর্মালম্বীদের জন্মাষ্টমী ও বিজয়া দশমী দিনে সনাতন ধর্মীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি(সনাতনী)দের মিলন মেলায় আনন্দমূখর হয়ে উঠে বঙ্গভবন। তাই সনাতন ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ অনেকেই এই দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এবছরই রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মিলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

বাংলাদেশের জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী হিন্দু জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ হলেও অনৈক্যতার কারণে ধীরে ধীরে সংখ্যা কমে অধিকার বঞ্চিত দুর্বল জনগোষ্ঠি। আর খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ০.৩০ শতাংশ কিন্তু ঐক্যতার কারণে সংখ্যা বেড়ে শক্তিশালী জনগোষ্ঠি।

একজন সনাতনী তার আরাধ্য দেবতা ও গুরুর দয়ার উপর ভর করে। বছরে একদিন কোনো ব্যক্তির বা গুরু ভাইয়ের নেতৃত্বে একত্রে সময় কাটায়, নিষ্ঠাভরে তার আরাধ্য দেবতা, অবতার বা গুরুর জয়গান করে, আনন্দ উৎসব করে নিজের পরকালের জন্য পুণ্য অর্জনের লক্ষ্যে। একত্রিত হয়ে এরা নিজেদের যৌথ ভাবনা ভাবেনা, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নিজেদের জ্ঞান যৌথ ভাবে বাড়ায়না, নিজেদের সমস্যা দূর করার জন্য কোন আলোচনা করেনা, সমবেতভাবে উন্নতির কোন প্লান ও কাজ করেনা। এরা এদের চাঁদা একত্রিত করে না বানায় স্কুল কলেজ হাসপাতাল, অনাথ আশ্রম, নোঙরখানা,  না বানায় বড় মন্দির, যেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে নিয়মিত একত্রিত হতে পারে।

সনাতনী তত মত তত মোক্ষ লাভের পথ খোঁজে। প্রত্যেকেই চেষ্টা করে আরাধ্য দেবতা বা তার অবতার কে বা গুরু কে খুশি করে নিজের পুণ্য ও লাভ বাড়াবার। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য, জ্ঞানে ও অর্থে শক্তিশালীরা অন্য গরিব দুর্বল অশিক্ষিত সনাতনীদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতেও পিছপা হয়না। আর বিচ্ছিন্ন সনাতনীরা একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে মুক্তির পথ খোঁজে। তাদেরকে অন্য এক ঈশ্বর বাদী ধর্মের ধর্মপ্রচারকারীরা তাদের নিজেদের ধর্মে টেনে নেয়। সবাই চায়, সমাজ তাকে আপন ভাবুক। একই কাস্টের মধ্যেও প্রতিযোগিতা ও হিংসা প্রবল। এ কারনেই সারাবিশ্বে সনাতনীরা অধিকার বঞ্চিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে।

ইহুদি খ্রিস্টান ধর্মের মূল ১০ টা বাণী এক ধরণের সমাজ রক্ষা করার সংবিধান, যৌথভাবে নিয়ম মেনে বাঁচার সংবিধান। প্রত্যেক ধর্মের অনুগামীরা, তাদের ধর্মস্থান কে কেন্দ্র করে, সবার সাথে নিয়মিত দেয়া নেয়া করে, বেঁচে থাকে, একে অপরের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, অন্যদের সমবেতভাবে রক্ষা করে। এরা যৌথভাবে কাজ করে বলেই, এরা একতা দিয়ে এদের ধর্মীয় লক্ষ্য পূরণ করে, সামাজিক উন্নয়ন করে, তেমনি অন্য সমাজের অনুগামীদের নানা ভাবে আকৃষ্ট ও প্রলুব্ধ করে, এদের ধর্মের অনুসারী হতে । তাই এদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সারাবিশ্বে এরা জোট বদ্ধ।  এদের প্রতি সংখ্যাগুরুদের বিরুপ আচরণ নেই যেটা সনাতনীদের প্রতি রয়েছে।

সনাতন ধর্মেই একমাত্র সময় উপযোগী রিফর্ম করার আইন আছে, কিন্তু সনাতনীদের যৌথ প্লাটফর্ম নেই বলে, কেহ রিফর্ম করেনা, সবাই নিজের মত ভাবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।