× Banner
সর্বশেষ
বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেবে সরকার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট-পেজ, বিভ্রান্তি এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি -তথ্যমন্ত্রী বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচির প্রস্তুতি, গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল রূপান্তর ও এআই

যশোর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজটি দুর্নীতির আখড়া

admin
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৮

যশোর অফিস:  যশোর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ন চার খন্ডকালীন শিক্ষকের চাকুরী জাতীয়করণের পায়তারা ও ১জন এমএলএসএস নিয়োগ দেওয়াসহ বহুবিধ অভিযোগ পাওয়া গেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

ভূক্তভোগীদের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক অভিযোগ থেকে জানা যায়, বহুবিধ দুর্নীতির অভিযোগে বছর খানেক আগে যশোর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিদায় নেন অধ্যক্ষ মাসরেকুল ইসলাম। তারপর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন বগুড়া জেলার বাসিন্দা ড. মোঃ আব্দুল আজিজ। তিনি যোগদানের পর সাবেক অধ্যক্ষ মাসরেকুল ইসলামের মতোই অব্যাহতভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৩ সালে যশোর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এসডিপি প্রকল্পের আওতায় ২ বছরের জন্য ৪জন খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ৩০ জুন এসব খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মেয়াদ শেষে অব্যাহতি গ্রহণের কথা থাকলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত তারা অবৈধভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন। এরা হলেন খন্ডকালীন শিক্ষক মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মোঃ জাহাঙ্গীর আনাম, মোঃ শাহীন হোসেন ও মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। তাদের কর্মকান্ড দেখলে মনে হবে তারা ওই প্রতিষ্ঠানের সরকারী শিক্ষক? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন সিনিয়র শিক্ষক জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চার খন্ডকালীন শিক্ষকের ওই প্রতিষ্ঠানে থাকার কোন এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, এসডিপি প্রকল্পের মেয়াদ যেদিন শেষ হয়েছে, তার পরদিন থেকে খন্ডকালীন চার শিক্ষক আইনগতভাবে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ নন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত ২ বছরের অধিক সময় ধরে খন্ডকালীন শিক্ষকরা কিভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে ডিউটি করছেন সে ব্যাপারে পরিস্কার কোন জবাব দিতেও পারেননি অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ খন্ডকালীন চার শিক্ষকের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হারে ঘুষ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকার সুযোগ সৃষ্টিসহ তাদের চাকুরী জাতীয়করণের পায়তারা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি এবিষয়টি নিয়ে তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে দৌঁড়াদৌড়ি করছেন। এ কারণে অধিকাংশ সময়ে তিনি কলেজে অনুপস্থিত থাকেন। শুধু তাই নয়, উল্লেখিত চার শিক্ষকের কেউই সরকারী চাকুরীর উপযুক্ত নয়। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র যাচাই করলেই অযোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যাবে। তাছাড়া তারা প্রত্যেকেই স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম মোঃ সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে গত মার্চ মাসে দু’দফা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সংঘটন অভিযোগ রয়েছে। এর একটি ঘটনা ঝুমঝুমপুর বিজিবি রিজিয়নের সামনে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একজন মেধাবী ছাত্রকে সাদ্দাম হোসেনসহ ৪/৫ জন যুবক মারপিট করে। পরে জনতার চাপের মুখে ক্ষমা চেয়ে এ যাত্রা থেকে রেহাই পায় সে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে যশোর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে।

স্থানীয় হামিদপুর এলাকার এক যুবককে মারপিট করার অভিযোগে জনতার ধাওয়ার মুখে পালিয়ে যায় শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে ঝুমঝুমপুর ময়লাখানার সামনে হাজী শাহাজানের বিল্ডিংয়ে মেরিট নামে একটি কোচিং সেন্টার খুলে শিক্ষকতা করার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সম্প্রতি অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে রঞ্জু নামে এক যুবককে এমএলএসএস পদে চাকুরী দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তারা বলেছেন, অফিসে একাধিক এমএলএসএস রয়েছে। তারপরও যদি কোন শুন্যপদ পূরণ করতে হয় তাহলে সেটা সরকারী বিধি-বিধান অনুযায়ী হতে হবে। এছাড়া ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে টেন্ডারের মাধ্যমে সরবরাহকৃত বিভিন্ন প্রকারের নিন্মমানের মালামাল গ্রহণ করে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

ভূক্তভোগী মহল যশোর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণসহ দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করেছেন। এব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..