ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা তলিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা তলিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

পাইকগাছা, প্রতিনিধি।। নিম্ন চাপের প্রভাবে কয়েক দিনের একটানা ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমন ধান, সবজি ক্ষেত, মৎস্য লীজ ঘের, নার্সারী, পুকুর, রাস্তা ও বসতবাড়ী তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাইকগাছার গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়–লী উঁচু এলাকা হলেও বাকী ৭টি ইউনিয়ন নিচু এলাকায় অবস্থিত। সামান্য বৃষ্টি হলে এ সকল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তবে গত দিনের ভারী বর্ষণে উঁচু এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীন রাস্তাগুলি পানিতে তলিয়ে থাকে। কয়েক’শ কাঁচা ও আঁধাপাকা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির উঠানে পানিতে তলিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বিড়াম্বনায় পড়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষরা কাজ করতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ে আর্থিক অনাটনের মধ্যে পড়েছে। পাইকগাছার সদর ইউনিয়ন গদাইপুরের কয়েক’শ নার্সারী ক্ষেত পানিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত ও আমন ধান ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় জাল দিয়ে ভেসে যাওয়া মাছ ধরতে দেখা যায়।বোয়ালিয়া ব্রীজ রোডের ফার্মের পাশে পিচের রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গদাইপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারী বৃষ্টিতে নার্সারী, সবজি ক্ষেত ও ধানের ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির উঠান পর্যন্ত তালিয়ে রয়েছে। রাড়ুলী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, বৃষ্টিতে অনেক কাঁচা ঘর পড়ে গেছে ও তার বাড়ির উঠানে হাটু পানি জমে রয়েছে। রান্না ঘরের কাঁচা উনানে পানি ভরে থাকায় রান্না করতে পারছে না। বোয়ালিয়া রোডের বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন ও জনগণের চলাচলের ভোগান্তি বেড়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এলাকা প্লাবিত হয়ে আমন ধান ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই প্লাবিত এলাকা পানি সরে গেলে আমন ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। উপজেলার সিনিয়র সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাশ জানান, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে নি¤œ এলাকার প্লাবিত হয়েছে। তবে মৎস্য ঘের ও পুকুর ভেসে যাওয়ার কোন খবর পাওয়া যায় নি। বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ হারুন জানান, খামারের প্রায় ৩৭ একর জমির পাঁকা ধান ঝড়ে পড়ে পানিতে ডুবে থাকায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। অসময়ে কয়েক দিনের একটানা বৃস্টিতে মানুষের জনদূর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।