বিএনপির নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন? মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে থাকায় দৌড়ে যারা এগিয়ে

বিএনপির নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন? মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে থাকায় দৌড়ে যারা এগিয়ে
মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরী

​রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র নেতা ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সবুজ সংকেত পেয়েছেন। সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক নিয়ম অনুসরণ করে তিনি ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ মন্ত্রিসভার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন—এমন চিত্র রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্ট।

​তবে রাষ্ট্রপতির আসনে তাঁর আসীন হওয়ার মধ্য দিয়ে দল ও সরকারের নীতি-নির্ধারণী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হয়ে পড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন আয়োজন করবে সংসদ সচিবালয়। একই সাথে এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে—বিএনপির পরবর্তী সাংগঠনিক অভিভাবক তথা মহাসচিব কে হচ্ছেন?

​মহাসচিব পদের সম্ভাব্য দাবিদার

​বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শূন্য হতে যাওয়া মহাসচিব পদের জন্য প্রধানত তিনটি নাম আলোচনায় উঠে এসেছে:

  • রুহুল কবির রিজভী: বর্তমানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্বরত আছেন।
  • সালাহউদ্দিন আহমদ: দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
  • আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী।

​ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সমীকরণ

​দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের পূর্বে বিএনপি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দিতে পারে। পরবর্তীতে কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পদটি স্থায়ী করা হতে পারে।

​এই পদে রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন বিএনপির দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতারা। কারণ তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি এবং নতুন মন্ত্রিসভাতেও অন্তর্ভুক্ত হননি। বিএনপি-র দলীয় ঐতিহ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও পূর্বে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

​অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান সরকারের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছেন। ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজের চাপের কথা বিবেচনা করে তাদের এই পদে না আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

​রাষ্ট্রপতির শূন্যপদ ও সাংবিধানিক বিধান

​গত ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদচ্যুত সরকারের মনোনয়নে নির্বাচিত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়ম রয়েছে। সংসদে একক আধিপত্য থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়া স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।