বেনাপোল থেকে ফিরে আব্দুল জলিলঃ সম্পৃতি করোনা ভাইরাস সংক্রমনে বিশ্ববাসী এখন আতঙ্কিত। এ রোগের উৎপত্তি স্থল চীনসহ বেশ কয়টি দেশ এখন আক্রান্ত। পৃথিবীর বৃহত্তম রাস্ট্র ভারত বর্ষেও এ রোগের প্রাদূর্ভাবের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দেশ বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। মোদ্দ কথা রোগ টির সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নিজ নিজ দেশ পরিত্রানের উপায় খুজছে। প্রতিটি দেশ করোনা ভাইরাস রোধে জনসচেতনতা মূলক প্রচার-প্রচারনা অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষ করে সীমান্ত রেখা বরাবর প্রত্যেকটি দেশ সীমান্ত রক্ষী দ্বারা কড়া নজরদারীর ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। ভিসা দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধি-নিষেধ জারী করেছে। ফলে দেশ-বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েছে চাকুরীপ্রার্থী,চিকিৎসা,ব্যবসা- বানিজ্য ইত্যাদী পাসপোর্টযাত্রী সমূহ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সরকার গতকাল এক প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে সেদেশে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে।
শুক্রবার ১৩ই মার্চ অথ্যাৎ বিকাল৫টার পর থেকে শুরু করে আগামী ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ একমাস তারা পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত বন্ধ ঘোষনা করেছে। ফলে,পাসপোর্ট যাত্রীরা বড় রকমের দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন।
তাহরি ধারাবাহিকতায় ঘোষিত নোটিশ মোতাবেক আজ ১৩ই মার্চ বিকাল পর্যন্ত যাত্রী চলাচল অব্যাহত থাকবে,এরপর একমাসের জন্য সম্পূর্ণরুপে যাতায়াত বন্ধ থাকবে। ঘোষনা জারীর সাথে সাথে পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্টে শতশত পাসপোর্ট যাত্রী ভীড় জমিয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের কাজ করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থেকে দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন শিশু,বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষ।
এব্যাপারেবেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মহাসিন খান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন থেকে বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে একটি চিঠি আসে। তাতে লেখা আছে শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১২ টা থেকে নতুন করে কোনো পাসপোর্টধারী যাত্রী গ্রহণ করা হবে না।
তবে যে সমস্ত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে আছে তারা ইচ্ছা করলে বেরিয়ে যেতে পারবে। আর যে,সমস্ত ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রী যারা বাংলাদেশে আছে তারা ফিরে আসলে তাদেরকে গ্রহণ করা হবে। নতুন করে কোনো পাসপোর্টধারী যাত্রীর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারি কমিশনার উত্তম চাকমা জানান, নতুন করে কোনো পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে না এমন একটি চিঠি ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনকে দিয়েছে এটা শুনেছি। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধের কোনো চিঠি বেনাপোল কাস্টমসকে দেওয়া হয়নি। যদি এরকম কোনো নির্দেশনা আসে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল জানান, নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে যাত্রী যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে ও আমদানি-রফতানি বানিজ্য বন্ধের কোনো আদেশ আমরা পায়নি। এরকম নির্দেশনা পেলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





