এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি ॥ আইনের ধারা পরিমাণ মতো থাকলেও কার্যকরী পদক্ষেপ চোখে মেলা বড়ই দুস্কর। ফলে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের সভ্য সমাজের মানুষেরা বেআইনি কাজ করেই চলেছেন। এমনকি এ নিয়ে লেখালেখি করার মতো দুঃসাহস দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন ঐ সকল কোচিং বানিজ্যের শিক্ষকবৃন্দ। পাটকেলঘাটার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে হরহামেশাই চলছে স্কুল শিক্ষকদের দ্বারা অবাধ কোচিং বাণিজ্য। সমস্থ নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে অনায়াসে চালিয়ে যাচ্ছেন স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এমনকি কোচিংয়ে ঐ সমস্থ স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে পড়তে বাধ্য করানো হচ্ছে। এতে প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকরাও কোচিংয়ের অর্ন্তভুক্ত করে পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করছেন এ সকল হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে।
জানা যায়, পাটকেলঘাটাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একেবারে বছরের প্রথম দিন থেকে কোচিং বানিজ্য শুরু করেছেন। আর্থিক দৈন্যতায় কোন শিক্ষার্থী পড়তে অপারকতা প্রকাশ করলে বিভিন্ন ভাবে ক্লাসের পড়ায় কিংবা অন্যান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে দিচ্ছেন টর্চারিং। লেখাপড়া করুক আর নাই করুক নিয়মিত বেতন দিয়ে কোচিং করলে শতভাগ পাস ও ভালো ফলাফলের নিশ্চয়তা দিচ্ছেন এ সকল স্কুলের কোচিং শিক্ষকবৃন্দ। এখানেই শেষ করেননি শিক্ষকমন্ডলী। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ক্লাস রুম ব্যবহার করে বিদ্যুত সহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ব্যবহার করছেন তারা। আর আর্থিক মাসুল দিচ্ছেন সকল শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য শুধুমাত্র কোচিং বানিজ্যের টাকা দিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাবেন আর সরকারি মাসিক বেতনের টাকা দিয়ে তারা ব্যাংকে সঞ্চয় করবেন এমনটাই অভিমত তাদের। জানা যায়, প্রাইমারী পঞ্চম শ্রেণী হতে শুরু করে দ্বাদশ এমনকি ততোর্দ্ধ শ্রেনীর শিক্ষকগণ কোচিংয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। এতে ইসলামকাটি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামকাটি সরকারি প্রাথমি বিদ্যালয়, পাটকেলঘাটার কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুমিরা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পাটকেলঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাটকেলঘাটা হারুন অর রশিদ কলেজ, মৃজাপুর সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে অবাধ কোচিং বাণিজ্য। কাকডাকা ভোরে বাজারে এসে একখানা রুটি ডাল নাকে মুখে দিয়েই কোচিংয়ে লেগে যাচ্ছেন। কয়েক ব্যাস শেষ করেই দিচ্ছেন বিদ্যালয়ে পাঠদান। আবার বিদ্যালয় ছুটি হলে শুরু করছেন কোচিং বাণিজ্য। এভাবে স্কুলের বাইরে কয়েক ডজন সাইকেল, বাইসাইকেল সাজিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে অবাধ কোচিং বাণিজ্য।
ইসলামকাটি সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুল ইসলাম বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে ভালো ফলাফলের অহংকার দেখিয়ে মাত্রারিক্ত অর্থ আদায় করছেন অভাবী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে। অভিযোগ আছে মির্জাপুর সরঃকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুর্য পালের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন তিনিও কোচিং বানিজ্য বেপরোয়াভাবে মুনাফার লোভে পরিচালনা করছেন। আসাদুল ইসলাম ও সুর্য্য পালের মতো প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষরা কোচিং বানিজ্যকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছেন। অন্যান্য স্থানে ভ্রাম্যমান অভিযান চললেও পাটকেলঘাটাঞ্চলে কর্ণপাত করেননি প্রশাসনের কর্মকর্তা ব্যক্তিগণ।
কয়েকটি প্রাইমারী স্কুলের খোজ নিয়ে জানা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়ানোর নিমিত্তে কোচিংয়ে পড়া বাধ্য করা হচ্ছে। স্ব স্ব স্কুলের শিক্ষকগণ দ্বারা পরিচালিত কোচিংয়ে প্রতি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ২-৩ শ’ বা তার বেশী টাকা আদায় করছেন তারা। তারপর আবার সপ্তাহে আধা ঘন্টা করে ৩/৪ দিন ক্লাস নিয়ে থাকেন। কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এদিকে আইন কানুনের কোনো বালাই নেই তাই এ সকল শিক্ষকগণ পার পেয়ে যাচ্ছেন। অথচ শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকার কতটা উদার তাতো আমরা জানি!
আরও জানান, কোচিং বানিজ্যের প্রতি সরকার কঠোর হলেও মুষ্টিমেয় কিছু অর্থলোভী শিক্ষকের জন্য দুর্নামের শেষ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের গ্রাম্য এলাকায় কোচিং বানিজ্যের বিরুদ্ধে খুব একটা হস্তক্ষেপ নেই। তাছাড়া আমরা ছাড়া আর কারা পড়াবে! বিষয়টি তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন অভিভাবকবৃন্দ।




